আদব-নং-১১-শ্রুতিমধুর-সুরে-তিলাওয়াত-করা

আদব নং -১১ শ্রুতিমধুর ‍সুরে তিলাওয়াত করা

আদাবে কুরআন কুরআন ও সুন্নাহ

আদব নং—১১
শ্রুতিমধুর সুরে তিলাওয়াত করা

আল্লামা নববী রহ. বলেন-

اَجْمَعَ الْعُلَمَاءُ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمْ مِنَ السَّلَفِ وَالْخَلَفِ مِنَ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِيْنَ وَمِنْ بَعْدِهِمْ مِنْ عُلَمَاءِ الْاَمْصَارِ اَئِمَّةِ الْمُسْلِمِيْنَ عَلٰى اِسْتِحْبَابِ تَحْسِيْنِ الصَّوْتِ بِالْقُرْاٰنِ وَاَقْوَالُهُمْ وَاَفْعَالُهُمْ مَشْهُوْرَةٌ نِهَايَةُ الشُّهْرَةِ

‘সাহাবা, তাবেয়ীন ও পরবর্তী উলামাগণ এ ব্যাপারে একমত যে, শ্রুতিমধুর কণ্ঠে তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব।’ —আত্তীবয়ান

মিষ্টস্বরে তিলাওয়াত মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে বহু হাদীস বর্ণিত আছে। এখানে আমরা কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করছি।

عَنِ الْبَرَاءِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَرَأَ فِى الْعِشَاءِ بِالتِّيْنِ وَالزَّيْتُوْنَ فَمَا سَمِعْتُ اَحَدَا اَحْسَنَ صَوْتًا مِّنْهُ

‘হযরত বারা ইবনে আযীব রাযি. বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এশার নামাযে সূরা তীন পড়তে শোনেছি; আমি তার চেয়ে সুন্দর কণ্ঠে আর কাউকে তিলাওয়াত করতে শুনিনি।’ —বুখারী, মুসলিম

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا اَذِنَ (اَىْ اِسْتَمَعَ) اللهُ لِشَيْئٍ كَمَا اَذِنَ لِنَّبِىِّ حَسَنُ الصُّوْتِ يَتَغَنّٰى بِالْقُرْاٰنِ يَجْهَرُ بِه. ٧٥١

‘হযরত আবু হুরায়রা রাযি. হতে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোনো নবী প্রকাশ্যে সুললিত কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করলে আল্লাহ তা‘আলা এর উপর যত আকৃষ্ট হন, অন্য কোনো বস্তুর প্রতি তত আকৃষ্ট হন না।’ —বুখারী শরীফ

عَنْ فُضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ اَنَّ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: للهُ اَشَدُّ اُذُنًا (اَىْ اِسْتِمَاعًا) لِلرَّجُلِ اَلْحَسَنُ الصَّوْتُ بِالْقُرْاٰنِ مِنْ صَاحِبِ الْقِيْنَةِ اِلٰى قِيْنَتِه

‘হযরত ফুযালা বিন উবাইদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সুললিত কণ্ঠে উচ্চ আওয়াজে কুরআন তিলাওয়াতকারীর প্রতি আল্লাহ তা‘আলা ঐ মনিবের চেয়ে বেশী মনযোগ দেন, যে তার গায়িকা বাদীর গান মনযোগ দিয়ে শোনে।’ —ইবনে মাজাহ

عَنْ بَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيِّنُوْا الْقُرْاٰنَ بِاَصْوَاتِكُمْ.

‘হযরত বারা ইবনে আযীব রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা তোমাদের সুন্দর আওয়াজের মাধ্যমে কুরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো।’ —সুনানে আবু দাউদ

عَنْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ مِنْ اَحْسَنِ النَّاسِ صَوْتًا بِالْقُرْاٰنِ الَّذِىْ اِذَا اسْتَمَعُوْهُ يَقْرَأُ حَسِبْتُمُوْهُ لِيَخْشٰى اللهَ.

‘হযরত জাবির রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মানুষদের মধ্যে সবচে’ উত্তম আওয়াজে কুরআন পাঠকারী হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যার তিলাওয়াত শুনলে তোমরা অনুভব করতে পারো যে, তার ভেতরে আল্লাহর ভয় আছে।’—ইবনে মাজাহ

عَنْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِكُلِّ شَيْئٍ حُلْيَةٌ وَحُلْيَةُ الْقُرْاٰنِ اَلصَّوْتُ الْحَسَنُ.

‘হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রত্যেক জিনিসের সৌন্দর্য আছে। কুরআনের সৌন্দর্য হচ্ছে সুললিত কণ্ঠে তিলাওয়াত।’

عَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ مَرْفُوْعًا اَحْسِنُوْا الْاَصْوَاتَ فِىْ الْقُرْاٰنِ.

‘হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা কুরআন তিলাওয়াতের সময় আওয়াজকে সুন্দর করো।’

عَنْ اَبِىْ مُوْسٰى رَضِىَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهٗ يَا اَبَا مُوْسٰى لَقَدْ اُوْتِيْتَ مِزْمَارًا مِنْ مَزَامِيْرِ اٰلِ دَاوُوْدَ.

‘হযরত আবু মুসা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তার সুললিত কণ্ঠের প্রশংসা করে) বলেন, হে আবু মুসা! আল্লাহ তোমাকে দাউদ আ. এর সুরের ন্যায় সুর দান করেছেন।’ —বুখারী শরীফ

عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ حَسِّنُوْا الْقُرْاٰنَ بِاَصْوَاتِكُمْ فَاِنَّ الصَّوْتَ الْحَسَنَ يَزِيْدُ الْقُرْاٰنَ حُسْنًا.

‘হযরত বারা ইবনে আযেব রাযি. বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একথা বলতে শুনেছি যে, তোমরা সুললিত কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করো। কারণ সুরেলা কণ্ঠের তিলাওয়াত কুরআনের সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করে।’ —দারেমী

عَنْ اَبِىْ لُبَابَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْاٰنِ

‘হযরত আবু লুবাবা রাযি. বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একথা বলতে শোনেছি যে, সে ব্যক্তি আমাদের নীতির অনুসারী নয়, যে কুরআনকে সুরেলা কণ্ঠে পাঠ করে না।’
আল্লামা নববী রহ. বলেন, উল্লিখিত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে একথা বলা যায় যে, শ্রম্নতিমধুর আওয়াজে ও সুরেলা কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব।

এজন্য যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী সুন্দর লেহানে কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত। তবে সৌন্দর্যের সীমারেখার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন জরুরী। এবং অতিরঞ্জন ও হ্রাসকরণ থেকে বেঁচে থাকা জরুরী। (সাথে সাথে এ বিষয়েও খেয়াল রাখা জরুরী যে, মিষ্টস্বরে তিলাওয়াত করতে গিয়ে যেন গানের সাদৃশ্য না হয়। লৌকিকতা ও কৃত্রিমতা পরিহার করাও একান্ত অপরিহার্য।)

কুরআন মাজীদের আদবসমূহ

পদমর্যাদার মাপকাঠি হলো পবিত্র কুরআন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরীত চি‌ঠির ব্যাখ্যা PDF ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

আল্লাহর আইন শাশ্বত ও চিরন্তন

মহানবী জগতের আদর্শ মহামানব। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

মানব জাতির মুক্তি ও কামিয়াবী সুরাতুল আসরের ৪ মূলনীতির আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *