ইসলাম কাকে বলে

ইসলাম কাকে বলে? ইসলামী জিন্দেগী

ইসলাম প্রতিদিন কুরআন ও সুন্নাহ নসীহত প্রবন্ধ

ইসলাম

আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন-

يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا ادْخُلُوْا فِى السِّلْمِ كَآفَّةً.

অর্থ : “হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর।” -সুরা বাকারা : ২০৮

ইসলাম একটি আরবী শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে কারো সামনে মস্তক অবনত করা। অর্থাৎ, কোনো বড় শক্তির সামনে আত্মসমর্পণ করার মাধ্যমে নিজেকে তার তাবেদার বানিয়ে নেয়া। তাহলে ঈমানদারকে ইসলামের অন্তভুর্ক্ত হওয়ার আহ্বান করার অর্থ হলো, শুধু মুখে কালিমায়ে তাইয়্যিবা পড়ে নেয়া, আল্লাহ তা‘আলাকে এক জানা, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসূল বলে স্বীকার করা এবং আখেরাতকে সত্য মনে করাই ইসলামে প্রবেশ করার জন্য যথেষ্ট নয়; বরং ইসলামের অন্তভুর্ক্ত হওয়ার জন্য সমস্ত জরুরী আকাইদ মনে—প্রাণে বিশ্বাস করার সাথে সাথে মানুষ নিজেকে আল্লাহ তা‘আলার আদেশ—নিষেধ এবং রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামÑএর শিক্ষার সামনে বিলীন করে দেবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এ অবস্থা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সত্যিকার অর্থে ইসলামের অন্তভুর্ক্ত হওয়া যাবে না।

ঈমান ইসলামের ক্ষেত্রে শুধু মৌখিক স্বীকৃতি যথেষ্ট নয়। আমরা মুখে বলি আমরা মুসলমান। আল্লাহ তা‘আলা, রাসূল ও কিয়ামতের উপর আমাদের অটল অবিচল বিশ্বাস আছে। কুরআন, হাদীস আমরা বিশ্বাস করি এবং মানি। কিন্তু চিন্তা করে দেখি না যে, ঈমানের অর্থ, মুসলমানির অর্থ এবং মানার অর্থ শুধু মতামত গুলি মানা নয়; বরং অক্ষরে অক্ষরে সবগুলি মেনে নেয়া, তদনুযায়ী কাজ করা। কিছু মানলাম কিছু মানলাম না, একে ঈমান বলে না। ইসলামও বলা চলে না।

পূর্ববর্তী ইয়াহুদ—নাসারাগণ কিছু মানত, আর কিছু মানত না। তাদেরকে কুরআনের ভাষায় এইরূপ ধমকি দেয়া হয়েছে-

اَفَتُؤْمِنُوْنَ بِبَعْضِ الْکِتٰبِ وَتَكْفُرُوْنَ بِبَعْضٍ.

অর্থ : “তবে কি তোমরা কিতাবের কতক মান আর কতক মান না? (এইরূপ মুসলমান হতে চাও?”Ñসুরা বাকারা : ৮৫
উল্লিখিত আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও।’ অর্থাৎ, দ্বীনে মুকাদ্দাসের কোনো একটি শাখা অথবা কতগুলো শাখা অঁাকড়ে ধরলেই পরিপূর্ণ মুসলিম হওয়া যায় না; বরং ঈমান—আকীদা, ইবাদত—বন্দেগী, ব্যবসা—বাণিজ্য, ক্ষেত—খামার, রাষ্ট্র পরিচালনার রীতি—নীতি, সমাজনীতি, আখলাক—চরিত্রসহ মানবজীবনের সকল পর্যায়ে আহকামে ইলাহিয়্যা এবং সুন্নাতে নববিয়্যার ছায়াতলে এলেই পূর্ণ মুসলিম হওয়া যায়। সুতরাং সে ব্যক্তি মুসলমান, যে মসজিদেও মুসলমান, বাজারেও মুসলমান, কর্মক্ষেত্রে, গৃহে এবং পরিবারের মধ্যেও মুসলমান, সে মুসলমান বন্ধু—বান্ধবদের সঙ্গেও। -ইসলামী জিন্দেগী : পৃষ্ঠা : ১০৪

প্রতিবেশীর হক । মাওলানা আবু তাসনীম উমাইর

কাজী মুজাহিদুল ইসলাম কাসেমী রহ ছিলেন ভারতবর্ষের মুসলিম মিল্লাতের অতন্দ্র প্রহরী

ঈমান । রাহে সুন্নাত ব্লগ। আবু তাসনীম উমাইর

Leave a Reply

Your email address will not be published.