ঈমান ইসলামের জন্য কৃতজ্ঞতা আদায় করা

ঈমান ইসলামের জন্য কৃতজ্ঞতা আদায় করা

ইবাদত ইসলাম প্রতিদিন নসীহত

ঈমান ইসলামের জন্য কৃতজ্ঞতা আদায় করা

নেয়ামতে ঈমান ও নেয়ামতে ইসলাম এ মহা দৌলত না চাইতেই আল্লাহ তা‘আলা আমাকে দান করেছেন। তিনি আমাদেরকে মুসলমান বানিয়েছেন, ঈমান ও ইসলাম দান করেছেন। মুসলমানের ঘরে জন্ম দিয়েছেন। আরো অসংখ্য নেয়ামত দান করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন-

وَإِنْ تَعُدُّوْا نِعْمَةَ اللهِ لَا تُحْصُوْهَا إِنَّ اللهَ لَغَفُوْرٌ رَحِيْمٌ.

অর্থ : “যদি তোমরা আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামত গণনা কর, তাহলে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।” -সুরা নাহল : ১৮

নিম্নোক্ত আয়াতে একটি বড় নেয়ামতের কথা স্বতন্ত্রভাবে বর্ণনা করেছেন। আর সে নেয়ামতের নাম হলো ইসলাম। যার অপর গুণগত নাম হলো ‘নেয়ামত’। যেমনটি পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছেÑ

اَلْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِيْ وَرَضِيْتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِيْنًا.

অর্থ : “আজকের দিনে আমি তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য পূর্ণ করে দিলাম আর আমার নেয়ামত তোমাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং একমাত্র ইসলামকেই তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” -সুরা মায়েদা, আয়াত : ৩

এ আয়াতে প্রথমত নেয়ামত পূর্ণ করে দেয়ার কথা স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে। এরপর নাম উল্লেখ করে বলে দেয়া হয়েছে যে, সে নেয়ামত কি? বলা হয়েছে যে, সে নেয়ামত হলো ইসলাম। গবেষণা করে বা দলীল প্রমাণের আশ্রয় নিয়ে বিষয়টি প্রমাণ করার কোনো দরকার পড়েনি। কারণ, মহান আল্লাহ নিজেই স্পষ্ট ভাষায় ইসলাম যে নেয়ামত সে কথা বলে দিয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তো এমন হয় যে, কোনো কিছুর নেয়ামত হওয়ার বিষয়টি দলীল প্রমাণ দ্বারা সাব্যস্ত করতে হয়। এখানে তেমন কিছুর প্রয়োজন হয়নি; বরং পবিত্র কুরআনের আয়াতে স্পষ্টভাবেই বিষয়টি উল্লেখ আছে যে, ইসলাম নামক নেয়ামত। সারকথা এই দাঁড়ালো যে, উপরোল্লিখিত আয়াতে ইসলাম যে একটি নেয়ামত এ কথাটিই আল্লাহ তা‘আলা প্রকাশ করেছেন এবং সে নেয়ামত দিয়ে যে আল্লাহ তা‘আলা আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন সে কথাও উল্লেখ করেছেন।

তাহলে এটি আমাদের জন্য আফসোসের কথা যে, এতো বড় একটি নেয়ামতের জন্য আমাদের শোকর আদায়ের তাওফীক হয় না! যে নেয়ামতের চেয়ে বড় আর কোনো নেয়ামত নেই এবং মৃত্যুর পর চিরন্তন মুক্তির ভিত্তিও ওই নেয়ামতের উপর প্রতিষ্ঠিত। আহা! এ নেয়ামত যদি খোদানাখাস্তা মৃত্যুর পূর্বে ছিনিয়ে নেয়া হয়, তাহলে আমাদের কী উপায় হবে! এ যখন এতো বড় নেয়ামত, তাহলে এর শোকর আদায় না করা বড়ই গাফলতের ব্যাপার।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর জানা ছিল যে, আমার উম্মত উদাসীন। এরা নিজ থেকে ঈমান ও ইসলামের শোকর খুব কমই আদায় করবে। আল্লাহ তা‘আলার সবচেয়ে দামী নেয়ামতের শোকর আদায়ের জন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এমন এক দু‘আ শিক্ষা দিয়েছেন যার মাধ্যমে ইসলাম প্রাপ্তির শোকরও আদায় হয়ে যায়। উদাহরণ স্বরূপ খাদ্য গ্রহণের পর নিম্নোক্ত দু‘আ পাঠের কথা বর্ণিত হয়েছে,

اَ لْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِىْ اَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ

অর্থ : “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য, যিনি আমাদেরকে পানাহার করিয়েছেন এবং আমাদেরকে মুসলমানের অন্তভুর্ক্ত করেছেন।” -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং- ৩৮৫২; জামে তিরমিযী, হাদীস নং- ৩৪৫৭

উপরোল্লিখিত দু‘আ খানা খাওয়ার পর পড়ার দ্বারা ঈমানী মৃত্যুর গ্যারান্টি রয়েছে।

ইমাম আবু হানীফা রহ. এর বাণী- যদি ঈমানের উপর জীবনের সমাপ্তি কামনা করো, তাহলে সর্বদা ঈমানের নেয়ামতের জন্য আল্লাহর শোকর আদায় করতে থাকো। কারণ আল্লাহ তা‘আলার প্রতিশ্রম্নতি রয়েছে-

لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيْدَنَّكُمْ.

অর্থ : “যদি তোমরা শোকর আদায় করো, তাহলে আমি তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দিব।”

সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ তা‘আলা একথা বলেননি যে,

لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَا اَسْلُبَنَّكُمْ اَوْ لَااَنْقُصَنَّكُمْ.

“তোমরা কৃতজ্ঞতা আদায় করলে আমি নেয়ামত ছিনিয়ে নিব না অথবা নেয়ামত হ্রাস করবো না; বরং তিনি বলেছেন- لَاَزِيْدَنَّكُمْ ‘তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দিব।’ বাড়িয়ে দেয়ার এ প্রতিশ্রম্নতির মধ্যে হ্রাস না করার প্রতিশ্রম্নতিও নিহিত আছে এবং হ্রাস না করার আশ্বাসের মধ্য দিয়ে ছিনিয়ে না নেওয়ার আশ্বাস আরও ভালোভাবে বুঝা গেছে।

আল্লাহর আইন শাশ্বত ও চিরন্তন

মহানবী জগতের আদর্শ মহামানব। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

Leave a Reply

Your email address will not be published.