ঈমান শুধু গ্রহন নয়

ঈমান শুধু গ্রহণ নয়, বর্জনও, সত্যকে গ্রহণ আর বাতিলকে বর্জন

ইবাদত ইসলাম প্রতিদিন কুরআন ও সুন্নাহ

ঈমান শুধু গ্রহণ নয়, বর্জনও, সত্যকে গ্রহণ আর বাতিলকে বর্জন

কোনো আকীদাকে মেনে নেয়ার পাশাপাশি তার বিপরীত বিষয়কেও সঠিক মনে করা স্ববিরোধিতা। মানবের সুস্থ বুদ্ধি তা গ্রহণ করতে পারে না। ইসলামেও তা অগ্রহণীয়। ঈমান তখনই সাব্যস্ত হবে যখন বিপরীত সব কিছু বাতিল ও মিথ্যা মনে করবে এবং তা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। সকল প্রকারের শিরক ও কুফর থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করা সরাসরি ঈমানেরই অংশ। যেমন- ঈমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ তাওহীদ। তাওহীদ কি শুধু আল্লাহ তা‘আলাকে মা‘বুদ মানা? না তা নয়। তাওহীদ অর্থ একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাকে সত্য মা‘বুদ বলে বিশ্বাস করা এবং আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে বা কোনো কিছুকে মা‘বুদ বলে স্বীকার না করা। তাওহীদ অর্থ আল্লাহ তা‘আলারই ইবাদত করা, আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত না করা। তাওহীদ অর্থ, উপায়—উপকরণের উর্ধ্বের বিষয়ে শুধু আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য না চাওয়া। তাওহীদের অর্থ একমাত্র আল্লাহকেই কল্যাণ—অকল্যাণের, হায়াত মওতের মালিক মনে করা, অন্য কাউকে এসব বিষয়ে ক্ষমতাশালী মনে না করা। তাওহীদ অর্থ, শুধু আল্লাহকে আহকামুল হাকিমীন মনে করা, আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে কারো হুকুম স্বীকার না করা। তাওহীদ অর্থ, শুধু শরীয়তে মুহাম্মাদিয়ার আনুগত্যকেই অপরিহার্য মনে করা, অন্য কোনো শরীয়তের আনুগত্য বৈধ মনে না করা। তাওহীদ অর্থ, শুধু ইসলামকেই হক্ব ও সত্য মনে করা, অন্য কোনো দ্বীনকে হক্ব ও সত্য মনে না করা।

মোটকথা, সব জরুরিয়াতে দ্বীন (দ্বীনের সর্বজনবিদিত বিষয়) এবং অকাট্য আকীদা ও আহকাম এই প্রকারেরই অন্তভূক্ত। এসব বিষয়ে ঈমান তখনই সাব্যস্ত হবে যখন তার বিপরীত বিষয়কে বাতিল ও মিথ্যা বলে বিশ্বাস করা হবে।

অনেকের ধারণা মুসলমানের ঘরে জন্মগ্রহণ করলেই মুসলমান হওয়া যায়, নিজের কিছু করার দরকার নেই। কিছু না করে শুধু মুসলমান নাম ধারণ করলেই বেহেশতে যাওয়া যাবে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কেননা ঈমান ও ইসলাম কারো পৈতৃক সম্পত্তি নয়। ঈমান ও ইসলাম এমন কতগুলো কাজের সমষ্টি, যেগুলো সাদা—কালো, আরব—অনারব, প্রাচ্য—পাশ্চাত্যের যে ব্যক্তিই সম্পন্ন করবে, সে—ই মানবতার উন্নতির উচ্চাসনে সমাসীন হবে, তাঁর ইহ—পরকাল ধন্য হবে। সে স্রষ্টা ও সৃষ্টি উভয়ের কাছে মাহবূব হয়ে থাকবে।

আল্লাহর আইন শাশ্বত ও চিরন্তন

মহানবী জগতের আদর্শ মহামানব। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

Leave a Reply

Your email address will not be published.