কুরআনের

কুরআনের আলোচ্য বিষয় ও উদ্দেশ্য

ইসলাম প্রতিদিন কুরআন ও সুন্নাহ

 

কুরআনের আলোচ্য বিষয় ও উদ্দেশ্য

কুরআনের আলোচ্য বিষয় হলো- মানবজাতি। কেননা পবিত্র কুরআনে মানবজাতির প্রকৃত কল্যাণ ও অকল্যাণের পরিচয়ই দান করা হয়েছে।
উদ্দেশ্য হলো- মাবজাতিকে আল্লাহ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থার প্রতি হিদায়াত বা পথ-প্রদর্শন করা, যাতে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানে তারা শান্তিময় জীবনের অধিকারী হতে পারে।
হযরত শাহ ওলীউল্লাহ রহ. কুরআনের আলোচ্য বিষয়সমুহকে প্রধানতঃ পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন। তাঁর রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘আল ফাওযুল কাবীরে’ তিনি লিখেছেন- কুরআনুল কারীমে যে সব জ্ঞান ও উপদেশপূর্ণ তত্ত্ব ও তথ্য আলোচিত হয়েছে সেগুলিকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়-

প্রথম : ইলমুল-আহকাম বা সংবিধান জ্ঞান:

ইবাদত-বন্দেগী, আদান-প্রদান, আচার-ব্যবহার, ঘর-সংসার, সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি প্রভৃতি মানবজীবনের যাবতীয় প্রয়োজন ও বিষয় সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ ও নির্দেশাবলী ওয়াজিব, মুস্তাহাব, হালাল, হারাম, মাকরূহ, মুবাহ যাবতীয় আদেশ নিষেধই এই প্রকারে আলোচিত হয়েছে।

দ্বিতীয় : ইলমুল-মুখাসামা বা বিতর্কালোচনা:

ইহুদী, নাসারা, মুশরিক, মুনাফিক এই চারটি পথভ্রষ্ট দলের সাথে বির্তক। এই প্রকারে তাদের ভ্রান্ত মতবাদের ঘৃণ্যতা ও জঘন্যতা প্রকাশ করে জনমনে তৎপ্রতি ঘৃণার উদ্রেক করা হয়েছে। সেই সংগে তাদের কুসংস্কার এবং মতবাদসমূহ উল্লেখ করে সেগুলির সমুচিত জওয়াব দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় : ইলমুত-তাযকীর বি-আলা-ইল্লাহ বা স্রষ্টার অবদান স্মরণিকা:
আল্লাহর অনুগ্রহ, অবদান এবং কুদরতী নিদর্শনাদি সম্পর্কিত জ্ঞান। এই প্রকারে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি রহস্য, দৈনন্দিন জীবনে প্রাপ্ত বান্দার অভিজ্ঞান, সর্বোপরি স্রষ্টার সর্ববিধ গুণাবলীর পরিচয় সম্পর্কিত আলোচনা সন্নিবেশিত হয়েছে।

চতুর্থ : ইলমুত-তাযকীর বি-আইয়্যামিল্লাহ বা স্রষ্টার পক্ষ থেকে ধ্বংস-যজ্ঞ স্মরণিকা:

আল্লাহর সৃষ্টি-বস্তুর অবস্থা সংক্রান্ত জ্ঞান। এই প্রকারে হক ও বাতিল, সত্য ও মিথ্যার অতীত সংঘর্ষ ও রেষা-রেষির ইতিহাস আলোচিত হয়েছে। সেই সংগে হক ও সত্যপ্রিয়তার উজ্জ্ব-পরিণাম, মিথ্যা এবং বাতিলের শোচনীয় পরিণতি সর্বসমক্ষে তুলে ধরা হয়েছে এবং যথাক্রমে উৎসাহিত উদ্দীপিত এবং সতর্ক সাবধান করা হয়েছে।

পঞ্চম : ইলমুত-তাযকীর বিল মাউত বা মৃত্যু স্মরণিকা:

মৃত্যুর অবস্থা, মানুষের অক্ষমতা, মৃত্যুর পর বেহেশত-দোযখের দৃশ্যের প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ, রহমত ও আযাবের ফেরেশতাদের আগমন উপস্থিতি, কিয়ামতের আলামত, হযরত ঈসা আ. এর অবতরণ, দাজ্জালের আবির্ভাব, ইয়াজুজ-মাজুজের অভিযান, ইসরাফীলের ফুঁক, হাশর-নশর, হিসাব-নিকাশ, পাপ-পূণ্যের ওজন, আমলনামা, মুমিনদের দীদারে খোদা ওয়ান্দী (আল্লাহর সাক্ষাৎ), আযাব ও শান্তির নানাবিধ প্রকার, জান্নাতের নিয়ামতসমূহের বিস্তারিত বিবরণ প্রভৃতি সমস্তই এই জ্ঞানের অন্তর্ভূক্ত। মানুষকে আত্মসতর্ক এবং আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্যের জন্য উদ্দীপিত করাই এর মুখ্য উদ্দেশ্য।
-আল-ফাওযুল কবীর, পৃষ্ঠা : ২

 

=========================================================================================
কুরআ‌নুল কারিমের কথা
Rahe Sunnat Blog || রাহে সুন্নাত ব্লগ

Leave a Reply

Your email address will not be published.