কুরআন মাজীদের পরিচয় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

কুরআনের পরিচয়, আলোচ্য বিষয়, লক্ষ্য ও ‍উদ্দেশ্য

ইসলাম প্রতিদিন কুরআন ও সুন্নাহ

কুরআনের পরিচয়

আল্লাহ পাক মানবজাতিকে দেহ এবং আত্মার সমন্বয়ে সৃষ্টি করে একদিকে যেমন তাদের দৈহিক ও বাহ্যিক লালন—পালনের জন্য চন্দ্র—সূর্য, আকাশ—পৃথিবী, বৃক্ষলতা, শ্যামল—বনরাজী, শস্য সমৃদ্ধ বিপুল প্রান্তর প্রভৃতি সৃষ্টি করেছেন এবং এই সবকিছুকে মানবের সেবায় নিয়োজিত রেখেছেন; অপরদিকে তেমনি যুগে যুগে অগণিত আম্বিয়ায়ে কিরাম (আঃ) ও অসংখ্য আসমানী গ্রন্থ প্রেরণ করে মানবের রূহানী ও আধ্যাত্মিক মননশীলতা, নৈতিকতা এবং সাংস্কৃতিক চাল—চলন ও আচার—আচরণগত প্রতিপালনেরও এক নিখুঁত ও সুবিশাল আয়োজন করেছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ পাক সূচনাতেই মানবজাতিকে সতর্ক করে দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—

فَاِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّىْ هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَاىَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُوْنَ

‘তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে যখন হেদায়েত (ওহীর মাধ্যমে অবতীর্ণ আল্লাহ পাকের বিধানমালা) পেঁৗছবে, তখন যারা আমার এই হেদায়েতের অনুসরণ করবে, তাঁদের উপর না কোনো ভয় আসবে, না কোনো কারণে তারা চিন্তাগ্রস্ত ও সন্তপ্ত হবে।’ -সূরা আল—বাকারা, আয়াত : ৩৮

আধ্যাত্মিক প্রতিপালনের এই সুমহান ধারার সূচনা হয় দুনিয়ার প্রথম মানুষ, প্রথম নবী হযরত আদম আলাইহিস সালাম এবং তাঁর প্রতি অবতীর্ণ ‘ছুহুফে আদম’ (নির্দেশমালা সম্বলিত কিছু কপি) থেকেই। অতঃপর হযরত নূহ, হযরত ইবরাহীম, হযরত মূসা এবং হযরত ঈসা আলাইহিমুস সালামের কাল অতিক্রম করে সর্বশেষে এই ধারার পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটে খাতামুন নাবিয়্যীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূতঃপবিত্র জীবনে এবং তাঁর প্রতি অবতীর্ণ সর্বশেষ আসমানী গ্রন্থে। বস্তুতঃ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য অবতীর্ণ সর্বশেষ এই মহা গ্রন্থই হচ্ছে ‘আল—কুরআন।’

অতীতের সকল নবীর দাওয়াত এবং আসমানী গ্রন্থসমূহের সার—নির্যাস এই ‘আল—কুরআন’। আসমানী গ্রন্থসমূহে বর্ণিত সকল তত্ত্ব ও তথ্যের বিস্ময়কর সমাবেশ ঘটেছে এতে। পবিত্র কুরআনের আবির্ভাব ও অবতরণের পর অন্য কোনো গ্রন্থের কার্যকারিতা আর অবশিষ্ট থাকেনি। একাধারে সকল আসমানী গ্রন্থই মানসূখ বা রহিত হয়ে যায়। সুতরাং সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ এই মহাগ্রন্থ বিশ্ব মানবাতার আধ্যাত্মিকতা ও নৈতিকতার সংরক্ষণ, প্রতিপালন ও প্রশিক্ষণের একমাত্র উৎস, সৃষ্টির সর্বাঙ্গীন কল্যাণ কামনায় স্রষ্টার অনবদ্য তোহফা।

আল—কুরআন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রত্যক্ষ কালাম; সুমহান বাণী সম্বলিত গ্রন্থ। এর ভাব ও বিষয়বস্তু যেমন আল্লাহর নিজস্ব, তেমনি এর প্রতিটি শব্দ এবং ভাষাও আল্লাহর নিজস্ব। তাই সৃষ্টির তুলনায় আল্লাহর অদ্বিতীয় মহিমার মতই বাণীর জগতে আল—কুরআনেরও অদ্বিতীয় মহিমা এবং মর্যাদা ও মান।

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনায়

اِنَّ هٰذَا الْقُرْاٰنَ حَبْلُ اللهِ وَهُوَ النُّوْرُ الْمُبِيْنُ وَالشِّفَاءُ النَّافِعُ عَقْدٌ لِّمَنْ تَمَسَّكَ بِه وَنَجَاةٌ لِّمَنْ تَبِعَهٗ

‘আল—কুরআন আল্লাহর রশি, বিশলকায় আলো; অব্যর্থ মহৌষধ। যে অঁাকড়ে ধরবে তার জন্য শক্ত বন্ধন, যে অনুকরণ করবে তার জন্য মহামুক্তির সনদ।’ -আল—হাকীম ও আল বায়হাক্বী

কুরআনের আলোচ্য বিষয় ও উদ্দেশ্য

কুরআনের আলোচ্য বিষয় হলো মানবজাতি। কেননা পবিত্র কুরআনে মানবজাতির প্রকৃত কল্যাণ ও অকল্যাণের পরিচয়ই দান করা হয়েছে।

উদ্দেশ্য হলো মাবজাতিকে আল্লাহ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থার প্রতি হিদায়াত বা পথ—প্রদর্শন করা, যাতে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানে তারা শান্তিময় জীবনের অধিকারী হতে পারে।

হযরত শাহ ওলীউল্লাহ রহ. কুরআনের আলোচ্য বিষয়সমূহকে প্রধানতঃ পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন। তাঁর রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘আল ফাওযূল কাবীরে’ তিনি লিখেছেন-

কুরআনুল কারীমে যে সব জ্ঞান ও উপদেশপূর্ণ তত্ত্ব ও তথ্য আলোচিত হয়েছে সেগুলিকে মৌলিক ভাবে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়-

প্রথম : ইলমুল—আহকাম বা সংবিধান জ্ঞান

ইবাদত—বন্দেগী, আদান—প্রদান, আচার—ব্যবহার, ঘর—সংসার, সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি প্রভৃতি মানবজীবনের যাবতীয় প্রয়োজন ও বিষয় সংক্রান্ত বিধি—নিষেধ ও নির্দেশাবলী ওয়াজিব, মুস্তাহাব, হালাল, হারাম, মাকরূহ, মুবাহ সহ যাবতীয় আদেশ নিষেধই এই প্রকারে আলোচিত হয়েছে।

দ্বিতীয় : ইলমুল—মুখাসামা বা বিতর্কালোচনা

ইহুদী, নাসারা, মুশরিক, মুনাফিক এই চারটি পথভ্রষ্ট দলের সাথে বির্তক। এই প্রকারে তাদের ভ্রান্ত মতবাদের ঘৃণ্যতা ও জঘন্যতা প্রকাশ করে জনমনে তৎপ্রতি ঘৃণার উদ্রেক করা হয়েছে। সেই সংগে তাদের কুসংস্কার এবং মতবাদসমূহ উল্লেখ করে সেগুলির সমুচিত জওয়াব দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় : ইলমুত—তাযকীর বি—আলা—ইল্লাহ বা ¯ স্রষ্টার অবদান স্মরণিকা

আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ, অবদান এবং কুদরতী নিদর্শনাদি সম্পর্কিত জ্ঞান। এই প্রকারে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি রহস্য, দৈনন্দিন জীবনে প্রাপ্ত বান্দার অভিজ্ঞান, সর্বোপরি ¯্রষ্টার সর্ববিধ গুণাবলীর পরিচয় সম্পর্কিত আলোচনা সন্নিবেশিত হয়েছে।

চতুর্থ : ইলমুত—তাযকীর বি—আইয়্যামিল্লাহ বা স্রষ্টার পক্ষ থেকে ধ্বংস—যজ্ঞ স্মরণিকা

আল্লাহর সৃষ্টি—বস্তুর অবস্থা সংক্রান্ত জ্ঞান। এই প্রকারে হক ও বাতিল, সত্য ও মিথ্যার অতীত সংঘর্ষ ও রেষারেষির ইতিহাস আলোচিত হয়েছে। সেই সঙ্গে হক ও সত্যপ্রিয়তার উজ্জ্বল প্রতিফলন, মিথ্যা এবং বাতিলের শোচনীয় পরিণতি সর্বসমক্ষে তুলে ধরা হয়েছে এবং যথাক্রমে উৎসাহিত উদ্দীপিত এবং সতর্ক সাবধান করা হয়েছে।

পঞ্চম : ইলমুত—তাযকীর বিল মাউত বা মৃত্যু স্মরণিকা

মৃত্যুর অবস্থা, মানুষের অক্ষমতা, মৃত্যুর পর বেহেশত—দোযখের দৃশ্যের প্রত্যক্ষ সাক্ষাত, রহমত ও আযাবের ফেরেশতাদের আগমন উপস্থিতি, কিয়ামতের আলামত, হযরত ঈসা আ. এর অবতরণ, দাজ্জালের আবির্ভাব, ইয়াজুজ—মাজুজের অভিযান, ইসরাফীলের ফুঁক, হাশর—নশর, হিসাব—নিকাশ, পাপ—পুণ্যের ওজন, আমলনামা, মুমিনদের দীদারে খোদা ওয়ান্দী (আল্লাহর সাক্ষাৎ), আযাব ও শান্তির নানাবিধ প্রকার, জান্নাতের নিয়ামতসমূহের বিস্তারিত বিবরণ প্রভৃতি সমস্তই এই জ্ঞানের অন্তভুর্ক্ত। মানুষকে আত্মসতর্ক এবং আল্লাহ পাকের দাসত্ব ও আনুগত্যের জন্য উদ্দীপিত করাই এর মুখ্য উদ্দেশ্য। -আল—ফাওযূল কবীর, পৃষ্ঠা : ২

পদমর্যাদার মাপকাঠি হলো পবিত্র কুরআন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরীত চি‌ঠির ব্যাখ্যা PDF ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

আল্লাহর আইন শাশ্বত ও চিরন্তন

মহানবী জগতের আদর্শ মহামানব। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

মানব জাতির মুক্তি ও কামিয়াবী সুরাতুল আসরের ৪ মূলনীতির আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক

Leave a Reply

Your email address will not be published.