কুরআন মাজীদের আদবসমূহ

কুরআন মাজীদের আদবসমূহ

ইসলাম প্রতিদিন কুরআন ও সুন্নাহ

কুরআন মাজীদের আদবসমূহ

আদব নং—২

সঠিক ও পরিশুদ্ধ নিয়তের পর প্রথম আদব হলো তিলাওয়াতকারী বা—ওযূ থাকবে। ওযূ অবস্থায় তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব। কারণ কুরআন তিলাওয়াত হচ্ছে, সর্বোত্তম জিকির। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণ পবিত্র অবস্থায় জিকির করাকে পছন্দ করতেন। তবে ওযূ ছাড়া তিলাওয়াত করাও জায়েয। উদাহরণত, বুখারী শরীফে বর্ণনা এসেছে- নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে চেহারা মুবারকে হাত বুলাতেন আর সূরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন। এরপর পার্শ্বে লটকানো মশক থেকে ওযূ করে নামাযের জন্য বের হতেন।

জ্ঞাতব্য : কুরআন মজীদ স্পর্শ না করে যদি তিলাওয়াত করা হয় তবে ওযূ করা মুস্তাহাব। নতুবা ওযূ ছাড়া কুরআন শরীফ স্পর্শ করা জায়েয নেই।

আদব নং—৩

মিসওয়াক

যেহেতু তেলাওয়াতের উপকরণ ও মাধ্যম হচ্ছে মুখ; এ জন্য পাক কুরআনের সম্মানার্থে তেলাওয়াতের পূর্বে মেছওয়াক করে নেওয়া মুস্তাহাব। যাতে মুখের পূর্ণ পবিত্রতা ও শুদ্ধি অর্জন হয়। এ সম্পর্কিত একটি হাদীস হযরত আলী রাযি. থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে যে,

اِنَّ الْعَبْدَ اِذَا تَسَوَّكَ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّىْ قَامَ الْمَلَكُ خَلْفَهٗ يَسْتَمِعُ لِقِرَائَتِهِ فَيُدَوِّنُوْا مِنْهُ حَتّٰى يَضَعَ فَاهُ عَلٰى فِيْهِ, فَمَا يَخْرُجُ مِنْ فِيْهِ اَىْ مِنْ فَمِ الْقَارِىْ شَيْئٌ اِلَّا صَارَ فِىْ جَوْفِ الْمَلَكِ فَطَهِّرُوْا اَفْوَاهَكُمْ لِلْقُرْاٰنِ

‘যখন বান্দা মেছওয়াক করে নামাযে দাঁড়ায় তখন ফেরেশতারাও তার পেছনে দাঁড়িয়ে তিলাওয়াত শুনতে থাকে। এরপর ফেরেশতারা আরো নিকটবর্তী হয়। এক পর্যায়ে তিলাওয়াতকারীর মুখে মুখ রাখে। যা কিছু তার মুখ থেকে বের হয় ফেরেশতারা তা নিজেদের পেটের ভিতর রেখে দেয়। সুতরাং তোমরা কুরআন পাকের জন্য নিজেদের মুখকে পবিত্র করো।’

এছাড়া সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত-

اِنَّ اَفْوَاهَكُمْ طُرُقٌ لِّلْقُرْاٰنِ فَطِيْبُوْهَا بِالسِّوَاكِ

‘তোমাদের মুখগুলো কুরআনের পথ। তাই মেছওয়াক দ্বারা তা সুরভিত করো।’

বায়হাকী শরীফে হযরত সামুরা রাযি. থেকে বর্ণিত-

طَيِّبُوْا اَفْوَاهَكُمْ بِالسِّوَاكِ فَاِنَّهَا طُرُقُ الْقُرْاٰنِ

‘মেছওয়াকের মাধ্যমে তোমাদের মুখকে পরিষ্কার করে নাও। কারণ তা কুরআন (পাঠের) পথ।’

আদব নং—৪

ইস্তিকবালে কেবলা (কেবলা অভিমুখ)

কুরআন তেলাওয়াতের সময় কেবলামুখী হয়ে বসা। হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-

اَشْرَفُ الْمَجَالِسِ مَا اسْتَقْبَلَ بِهِ الْقِبْلَةَ

‘সর্বোত্তম মজলিস (বৈঠক) হচ্ছে সেটা, যা কেবলামুখী হয়। অর্থাৎ অংশগ্রহণকারীরা কেবলামুখী হয়ে বসে।’ —তবরানী

একই অর্থবোধক আরো একটি রেওয়ায়াত তাবারানী রহ. বর্ণনা করেছেন-

اَكْرَمُ الْمَجَالِسِ مَا اسْتَقْبَلَ بِهِ الْقِبْلَةَ

আদব নং—৫

খুশু’ বা একাগ্রতা

কুরআন তেলাওয়াতের সময় অত্যন্ত একাগ্রতা ও মনযোগ থাকা চাই। প্রশান্ত চিত্তে আন্তরিকতার সাথে শ্রদ্ধাভরে তিলাওয়াত করবে। এতে করে কুরআনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সাথে সাথে অধিকতর ফায়দা হাসিল হওয়ার আশা করা যায়।

দাঁড়িয়ে, শুয়ে, বিছানা বা অন্য কিছুর উপর বসে তিলাওয়াত করা জায়েয। তিলাওয়াতকারী সর্বাবস্থায় সওয়াবের হকদার হবে। তবে দাঁড়িয়ে পড়ার চেয়ে বসে পড়া উত্তম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

اَلَّذِيْنَ يَذْكُرُوْنَ اللهَ قِيَامًا وَّ قُعُوْدًا وَّ عَلٰى جُنُوُبِهِمْ

‘যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে।’ —সূরা আলে ইমরান

আর তিলাওয়াত সর্বোত্তম স্মরণ। তাই তা—ও এ সকল অবস্থায় জায়েয।

বুখারী মুসলিমে হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত-

كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ الْقُرْاٰنَ وَ رَأْسُهٗ فِىْ حَجْرِىْ

‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কোলে মাথা রেখে কুরআন তিলাওয়াত করতেন।’

সাহাবায়ে কেরামের রাযি. কারো কারো আমলও এরূপ ছিল। যেমন হযরত আবু মুসা আশআরী রাযি. ও হযরত আয়শা রাযি.।

পদমর্যাদার মাপকাঠি হলো পবিত্র কুরআন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরীত চি‌ঠির ব্যাখ্যা PDF ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

আল্লাহর আইন শাশ্বত ও চিরন্তন

মহানবী জগতের আদর্শ মহামানব। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

মানব জাতির মুক্তি ও কামিয়াবী সুরাতুল আসরের ৪ মূলনীতির আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক

Leave a Reply

Your email address will not be published.