কুরআন মাজীদের হকসমূহ

কুরআন মাজীদের হকসমূহ

ইসলাম প্রতিদিন কুরআন ও সুন্নাহ

কুরআন মাজীদের হকসমূহ

পবিত্র কুরআন মাজীদের মৌলিক হক চারটি।

এক— আযমত অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি ভক্তি, তা‘যীম করা।

দুই— মুহাব্বত অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি আন্তরিক ভালোবাসা থাকা।

তিন— তিলাওয়াত মা‘আস সিহহাত, অর্থাৎ সহীহ শুদ্ধরূপে তিলাওয়াত করা।

চার— ইত্বা‘আত অর্থাৎ পবিত্র কুরআনের হুকুম—আহকামের উপর আমলের নিয়্যত করা।

এছাড়া একজন মুমিনের উপর কুরআনের আরো অনেক হক রয়েছে। সে হকসমূহ জানা এবং যথাসম্ভব তা আদায়ে সচেষ্ট হওয়া প্রত্যেকের জন্য জরুরী। এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থের প্রয়োজন। এখানে সংক্ষিপ্তাকারে কুরআনের বিশেষ কয়েকটি হক উল্লেখ করা হলো-

এক— কুরআনের উপর পরিপূর্ণ ঈমান আনা এবং কুরআনের প্রতিটি শব্দ ও বাক্য মহান আল্লাহপ্রদত্ত হওয়ার ব্যাপারে সুদৃঢ় বিশ্বাস রাখা।

দুই— কুরআনের পয়গামকে নিজের মাঝে ধারণ ও জীবনের সকল ক্ষেত্রে তার বিধি—বিধানের পূর্ণ অনুসরণ করা।

তিন— সঠিক পদ্ধতিতে সাধ্যানুযায়ী কুরআনের মাঝে ‘তাদাব্বুর’ ও ‘তাফাক্কুর’ করা অর্থাৎ গভীর ধ্যানমগ্নতার সাথে কুরআন পাঠ করা এবং উপদেশ গ্রহণের জন্য তার ভাব ও পয়গাম নিয়ে চিন্তা—ভাবনা করা। বিশেষভাবে কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন ঘটনা, উপমা ও নসীহতসমূহের ব্যাপারে চিন্তা—ফিকির করে করে কুরআনের আলো আহরণ করা এবং নিজের ঈমান—আমলের উন্নতি সাধন করা।

চার— নিজের স্ত্রী, সন্তান—সন্ততি ও অধীনস্থদের কুরআন শেখানো এবং কুরআনের আদর্শ অনুযায়ী তাদের জীবন গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা—ফিকির করা।

পাঁচ— দিনে—রাতে যখনই সুযোগ হয়, গভীর ভালোবাসা ও ভক্তি সহকারে বিশুদ্ধভাবে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা। যতটুকু তিলাওয়াত করবে, ততটুকু সর্বদা জারি রাখা। যাতে ভুলে না যায়। কারণ, ভুলে গেলে তিলাওয়াত করা আর না করা উভয়ই সমান।

ছয়— যদি কারো কুরআন শরীফের তরজমা (অনুবাদ) পড়তে আগ্রহ প্রকাশ পায়, তবে নিজের মতামত দেখা চাই না, কারণ এতে ভুল বুঝার প্রবল আশংকা থাকে। এমতাবস্থায় কোনো ভাল আলেমের নিকট সবক নিয়ে পড়া উচিত।

সাত— মনে—প্রাণে কুরআনকে ভালোবাসা এবং তার প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা ও আদব বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। কুরআন শরীফের দিকে পা মেলে বা পিঠ করে বসবে না। কুরআন শরীফ নীচু জায়গায় রেখে বসবে না এবং তা মাটি বা খালি বিছানার উপর রাখবে না, রেহাল বা বালিশের উপর রাখবে।

আট— যদি কুরআন শরীফ পুরাতন হয়ে ছিঁড়ে ফেটে যায়, তবে তা যত্নের সাথে একটুকরো কাপড়ে জড়িয়ে এমন কোনো পবিত্র স্থানে দাফন করে (গেড়ে) দিবে, যে স্থানে লোকের পা না পড়ে।

নয়— যখন কুরআন শরীফ পড়বে, তখন মনে মনে এ ধ্যান জমিয়ে রাখবে যে, তুমি যেন আল্লাহ তা‘আলার সাথে কথা—বার্তা বলতেছ। যদি এরূপ করতে পার, তবে দেখবে যে, তোমার অন্তর কেমন আলোকিত হয়, দিলের মধ্যে কেমন নূর পয়দা হয়।

দশ— কুরআনের এই আসমানী পয়গাম, তার হেদায়াতবার্তা অন্যের কাছে পেঁৗছে দেয়া এবং কুরআন আমাদের জন্য যে মহান শিক্ষা নিয়ে এসেছে, তার প্রচার—প্রসারে যথাসাধ্য চেষ্টা করা।

কুরআনের এ সকল দাবি ও হকগুলো আদায় করা আমাদের প্রত্যেকের জন্য জরুরী। সাথে সাথে কুরআনের শিক্ষার্থীদেরকে কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি কুরআনে কারীমের হকের বিষয়েও শিক্ষা দেয়া নেহায়েত দরকার। কিন্তু এমন ক‘জন আছেন যারা যথারীতি এ সকল হক আদায় করে থাকেন? অন্যান্য হকের কথা বাদ দিলেও ক‘জন পাওয়া যাবে, যারা নিয়মিত শুধু কুরআন তিলাওয়াত করেন? আফসোসের বিষয় হলো, অসংখ্য মুসলমান কুরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াতটুকুও করতে জানে না। এমনকি দ্বীনের প্রচার—প্রসারে রত অনেক দাঈ ব্যক্তিও এ ব্যাপারে অসচেতন।

পদমর্যাদার মাপকাঠি হলো পবিত্র কুরআন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরীত চি‌ঠির ব্যাখ্যা PDF ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

আল্লাহর আইন শাশ্বত ও চিরন্তন

মহানবী জগতের আদর্শ মহামানব। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

মানব জাতির মুক্তি ও কামিয়াবী সুরাতুল আসরের ৪ মূলনীতির আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক

Leave a Reply

Your email address will not be published.