খলীফা হারুনুর রশিদকে বাহলুল রহ.এর উপদেশ || রা‌হে সুন্নাত ব্লগ

ইসলামী ইতিহাস গল্প ও কবিতা ছোট গল্প/উপন্যাস শিক্ষামূলক গল্প

খলীফা হারুনুর রশিদকে

বাহলুল রহ.এর উপদেশ

খলীফা হারুনুর রশিদ হজের নিয়তে কুফা থেকে বের হলে কুফাবাসী তাকে দেখার জন্য পথে ভিড় করলো। খলীফা হারুন তখন উটের পিঠে বসাছিলেন। হঠাৎ ভিড়ের মধ্য থেকে কেউ একজন ‘হে হারুন! হে হারুন!’ বলে তার নাম ধরে ডাক দিলেন।

হারুনুর-রশিদ জিজ্ঞেস করলেন- ‘আমার নাম ধরে কে ডাকছে?’

বলা হলো- ‘সে বাহালুল।’

হারুনুর রশিদ পর্দা সরালে বাহালুল বলতে লাগলেন- ‘হে আমীরুল মুমিনীন! আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করছিলেন, তখন না সেখানে “মার মার” বলে কোন হট্টগোল ছিলো, আর না “পালাও পালাও” বলে কোনো আওয়াজ ছিলো। না “এদিকেই থাকো” বা “ঐদিকে থামো” বলে কোনো নির্দেশনা ছিলো।’
‘আর হে আমীরুল মুমিনীন! এই বরকতময় সফরে আপনার নম্রতা অবলম্বন করা বড়ত্ব প্রকাশ করা থেকে উত্তম।’

বাহলুলের কথা শুনে খলীফা হারুনুর রশিদ অঝোরে কান্না শুরু করলেন। অতঃপর নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বললেন- ‘তুমি খুবই চমৎকার কথা বলেছো। হে বাহলুল! আমাকে আরও কিছু উপদেশ দাও।’

বাহলুল বললেন-
ايما رجل آتاه الله مالا وجمالا وسلطانا، فانفق ماله وعف جماله، وعدل في سلطانه كتب في ديوان الله من الابرار.
‘আল্লাহ তাআলা যাকে ধনসম্পদ, সৌন্দর্য এবং রাজত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করেন। অতঃপর সে সেই সম্পদ উত্তম কাজে ব্যয় করে এবং তার সৌন্দর্যকে ফেতনা থেকে রক্ষা করে আর শাসনকার্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। আল্লাহ তাআলার তালিকায় তাকে সৎলোকের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’

হারুনুর রশীদ বললেন- ‘তুমি খুবই ভালো উপদেশ দিয়েছো।’ অতঃপর খলীফা তাকে উপহার দিতে নির্দেশ দিলে সেগুলো প্রত্যাখ্যান করে বাহলুল বললেন-
لا حاجت لي فيها، ردها الى من اخذتها منه.
‘আমার এই উপহারের কোনো প্রয়োজন নেই। এই সম্পদ তার কাছে ফিরিয়ে দিন যার কাছ থেকে আপনি নিয়েছেন।’

হারুনুর রশীদ বললেন- ‘আমরা আপনার জীবিকার ব্যবস্থা করে দিতে চাই।’

বাহলুল আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন- ‘আমীরুল মুমিনীন! আমি এবং আপনি আল্লাহ কর্তৃক প্রতিপালিত। সুতরাং এটা অসম্ভব যে, তিনি আপনাকে স্মরণ করবেন (দান করবেন) আর আমাকে ভুলে যাবেন।’

খলীফা আবু জাফর হারুনুর রশিদ ১৪৮ হিজরীতে রাণী খাইযরানের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন তিনি ১৭০ হিজরীতে নিজের ভাই হাদীর মৃত্যুর পর খলীফার দায়িত্ব নেন। সেইদিন তার সন্তান মামুন জন্মগ্রহণ করে। হারুন জ্ঞান-বিজ্ঞান অনুরাগী ও পৃষ্ঠপোষক এবং ধর্মীয় বিধান পালনে সচেষ্ট ছিলেন। তার শাসনামলে আববাসী খেলাফত পরিপূর্ণতা লাভ করে। তার স্ত্রী রাণী জুবাইদা মক্কায় পানির সঙ্কট নিরসনে খাল খনন করান। যাকে জুবাইদা খাল বলে আখ্যায়িত করা হয়।

[আল-হুরুফুয-যাহাবিয়্যা: ৬০]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *