জরুরী-মাসআলা-কুরআন-মাজীদ-স্পর্শ-করা-সংক্রান্ত

জরুরী মাসআলা কুরআন শরীফ স্পর্শ করা সংক্রান্ত

আদাবে কুরআন কুরআন ও সুন্নাহ

জরুরী মাসআলা

কুরআন শরীফ স্পর্শ করা সংক্রান্ত

ওযূ ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা
হদসে আসগর বা ছোট নাপাকী অবস্থায় কুরআনে কারীম স্পর্শ করা জায়েয নয়। তাবারানী ও দারা কুতনী—তে হযরত হাকীম ইবনে হেজাম থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন-

لَا تَمُسُّ الْقُرْاٰنَ اِلَّا وَاَنْتَ طَاهِرٌ

‘তুমি পবিত্রতা ব্যতিরেকে কুরআন স্পর্শ করো না।’

একই অর্থবোধক আরো একটি হাদীস হযরত ইবনে ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

لَا يَمُسُّ الْقُرْاٰنَ اِلَّا طَاهِرٌ

‘অপবিত্র ব্যক্তি যেন কুরআনকে স্পর্শ না করে।’

ইমাম দারা কুতনী রহ. হযরত ওমর রাযি. এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা বর্ণনার এক পর্যায়ে বলেন-

اِنَّ اُخْتَهُ قَالَتْ لَهُ قَبْلَ اَنْ يُّسْلَمَ: اِنَّكَ رِجْسٌ وَلَا يَمُسُّهُ اِلَّا الْمُطَهَّرُوْنَ

‘হযরত ওমর রাযি. এর ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তার বোন তাকে বললেন : তুমি তো (কাফের হাওয়ার কারণে) অপবিত্র। আর এ কুরআনকে পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ স্পর্শ করতে পারে না।’

জ্ঞাতব্য : ওযূ ছাড়া কুরআন শরীফ স্পর্শ করা জায়েয নয়। অবশ্য যদি পৃথক কোনো কাপড় দিয়ে ধরে, তাহলে জায়েয হবে। কিন্তু নিজের পরিহিত কাপড় বা কোর্তার আঁচল দিয়ে ধরা জায়েয নয়। হাত মোজা পড়েও ধরা জায়েয নেই। —বেহেশতী যেওর: ১/৫৪, ফতওয়ায়ে শামী: ১/১৬০, আহসানুল ফতওয়া: ২/১৯
ওযূ ছাড়া কুরআন পড়া

ওযূ ছাড়া কুরআন শরীফ পড়া জায়েয আছে। এমনিভাবে কুরআন শরীফ খোলা রেখে হাত না লাগিয়ে দেখে দেখে পড়াও জায়েয আছে। তবে ওযূ ছাড়া কুরআন শরীফ স্পর্শ করা জায়েয নেই। এমনকি কোথাও কুরআনের আয়াত লিখা থাকলে ওযূ ছাড়া লিখা স্থানে হাত দেয়া জায়েয নেই। তবে তা পড়া জায়েয আছে যদি গোসল ফরয না হয়ে থাকে। —বেহেশতী যেওর: ১/৫৪, ফতওয়ায়ে শামী: ১/১৬০, কাবিরী: ৬০

শিশুদের কুরআন স্পর্শ করা
শিশুদের জন্য কুরআন স্পর্শ করার জন্য ওযূ থাকা শর্ত নয়। তারা ওযূ ছাড়া ধরতে পারবে। তবে নাবালেগ ছেলে—মেয়েদেরকে ওযূসহ কুরআন শরীফ ধরতে শিক্ষা দেয়া এবং ওযূ ভেঙ্গে গেলে পুনরায় ওযূ করে কুরআন শরীফ ধরার তালীম দেয়া উচিত। —ইলমুল ফিকাহ: ১/৮০, কাশফুর আসরার: ১/৫০
সংবাদপত্রে লিখিত আয়াত স্পর্শ করা

সংবাদপত্র, লিফলেট ইত্যাদিতে লিখিত কুরআনের আয়াতের ক্ষেত্রে শুধু যেখানে আয়াত লিখা আছে সেখানে ওযূ ছাড়া হাত লাগানো জায়েয নয়। অন্যান্য স্থানে হাত লাগানো জায়েয আছে। তবে ছয় অক্ষরের চেয়ে ছোট আয়াত হলে তাতে হাত লাগানোর সুযোগ আছে। —আদ্দুররুল মুখতার: ১/১৬০, আহসানুল ফতওয়া: ২/২৭

তাফসীরের কিতাব স্পর্শ করা
তাফসীরের কিতাবে যদি পবিত্র কুরআনের আয়াত ছাড়া অন্যান্য বিষয় অধিক থাকে, তাহলে ওযূ ছাড়া হাত লাগানো জায়েয আছে। কিন্তু যেখানে কুরআনের আয়াত লিখা আছে, সেখানে হাত লাগানো জায়েয নয়। —ইমদাদুল ফতওয়া: ১/১৪৫, আহসানুল ফতওয়া: ২/২৭

ওযূ ছাড়া আয়াত লিখা
ওযূ ছাড়া কুরআনের আয়াত স্পর্শ করা যেমন নাজায়েয, তদ্রƒপ হাতের দ্বারা লিখাও নাজায়েয। তবে হাত কাগজ থেকে পৃথক রেখে পবিত্র কুরআনের আয়াত লিখা জায়েয আছে। এমনিভাবে ওযূ ছাড়া কম্পিউটারে কুরআনের আয়াত কম্পোজিং করা বা টাইপ করা জায়েয আছে। —জাদীদ ফেকহী মাসায়েল: ১/১০০, আহসানুল ফতওয়া: ২/২৭

পবিত্র কুরআনের তরজমা স্পর্শ করা
ওযূ ছাড়া পবিত্র কুরআন তরজমা স্পর্শ করা জায়েয আছে তবে মাকরূহ। আর যেখানে পবিত্র কুরআনের আয়াত লিখা আছে সেখানে ওযূ ছাড়া স্পর্শ করা নাজায়েয। —ইমদাদুল ফতওয়া: ১/১৪৫

কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের ক্যাসেট স্পর্শ করা
কুরআন তিলাওয়াত ধারণকৃত মোবাইল, টেপরেকর্ডার ও ক্যাসেট ওযূ ছাড়া স্পর্শ করা যাবে। —ইমদাদুল ফতওয়া: ১/১৪৫, আহসানুল ফতওয়া: ২/১৯

কিতাব ব্যবসায়ীদের কুরআন শরীফ স্পর্শ করা
ওযূ ছাড়া কুরআন শরীফ সরাসরি স্পর্শ করা কারো জন্যই জায়েয নেই। ওযূ না থাকলে রোমাল বা কাপড় দিয়ে ধরবে। তবে যে সমস্ত বইয়ে কুরআনের দুই একটি আয়াত লিখা আছে ঐ সকল বই ওযূ ছাড়া ধরা যাবে। কিন্তু আয়াত লিখা স্থানে হাত লাগানো জায়েয নয়। —ইমদাদুল ফতওয়া: ১/১৪১, ইমদাদুল আহকাম: ১/২৪১

হাত মোজা পড়ে পবিত্র কুরআন স্পর্শ করা
ওযূ না থাকলে হাত মোজা পড়েও কুরআন শরীফ স্পর্শ করা জায়েয নয়। তবে হাত মোজা খুলে শরীর থেকে আলাদা করে তা দ্বারা কুরআন শরীফ স্পর্শ করা জায়েয আছে। যেমন অন্যান্য কাপড় দিয়ে ধরা জায়েয আছে। —ইমদাদুল আহকাম: ১/২৪১

জামার আঁচল দিয়ে কুরআন স্পর্শ করা
ওযূ না থাকা অবস্থায় পরিহিত জামার আঁচল বা উড়না দিয়ে কুরআন শরীফ স্পর্শ করতে পারবে না। হঁ্যা, জামা গা থেকে খুলে আলাদা করে ধরতে পারবে ও উঠাতে পারবে। যেমন অন্যান্য কাপড় দিয়ে ধরা যায়। —বেহেশতী যেওর: ২/৫৯, ফতওয়ায়ে শামী: ১/৩০৩

হায়েয ও নাপাক অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা ও লিখা
হায়েয ও গোসল ফরয হওয়া অবস্থায় কুরআনের আয়াত পড়া যেমন নাজায়েয। তেমনি কুরআনের আয়াত লেখাও নাজায়েয। এমনকি দূরত্ব বজায় রেখে কাগজে হাত স্পর্শ না করেও যদি লিখা হয় বা কম্পোজিং বা টাইপ করা হয় তারপরও তা জায়েয নেই। এক আয়াতের কম হলেও নাজায়েয। —জাদীদ ফেকহী মাসায়েল: ১/১০০, ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/২০।

কুরআন মাজীদের আদবসমূহ

পদমর্যাদার মাপকাঠি হলো পবিত্র কুরআন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরীত চি‌ঠির ব্যাখ্যা PDF ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

আল্লাহর আইন শাশ্বত ও চিরন্তন

মহানবী জগতের আদর্শ মহামানব। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

মানব জাতির মুক্তি ও কামিয়াবী সুরাতুল আসরের ৪ মূলনীতির আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক

Leave a Reply

Your email address will not be published.