নবীদের সুন্নাত

নবীদের সুন্নাত

ইসলাম প্রতিদিন কুরআন ও সুন্নাহ পরিবার ও গোষ্ঠি প্রবন্ধ

নবীদের সুন্নাত

ভূমিকা :

উম্মতের উপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসংখ্য অগনিত হক রয়েছে। যা লিখনি এবং ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তন্মধ্যে মৌলিক কয়েকটি হক হলো-
১. প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান।
২. নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইতাআত ও আনুগত্য।
৩. নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত, আদত ও স্বভাব চরিত্রের অনুসরণ এবং প্রচার প্রসার।
৪. নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অন্য সবকিছু তথা নিজের প্রাণের চেয়ে বেশী মুহাব্বত করা।
৫. নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বাধিক শ্রদ্ধা, ভক্তি ও সম্মান করা।
৬. নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অধিক পরিমাণে দুরূদ শরীফ ও সালাম পাঠ করা।

হাকিমুল উম্মত মুজাদ্দিদে মিল্লাত শাহ আশরাফ আলী থানভী রহ. শেষোক্ত হকটির উপর উর্দূ ভাষায় “যাদুস সাঈদ” নামক দুরূদ শরীফের কিতাবটি সংকলন করেছেন।

আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন

إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهٗ يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِىِّ. يَا اَيُّهَاالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْا تَسْلِيْمَا.

অর্থ- আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর ফেরেশতাগণ রাসূলের উপর দুরূদ পাঠ করেন। তাই হে মুসলমানগণ! তোমরাও দুরূদ পাঠ কর রাসূূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর।

এখানে মুমিনদেরকে প্রথমে এ কথা বলা হয়নি যে, তোমরা রাসূলের শানে দুরূদ প্রেরণ কর; বরং বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর ফেরেশতাগণ দুরূদ পাঠ করেন। এর দ্বারা দুটি বিষয়ের প্রতি ইংগিত করা হয়েছে-

১. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রয়োজন নেই তোমাদের দুরূদের প্রতি। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা ও ফেরেশতাগণ দুরূদ পাঠ করে থাকেন। সুতরাং যদি তোমরা নিজেদের মঙ্গল কামনা কর তাহলে দুরূদ পাঠ কর।

২. এ আমলের শান ভিন্ন। কারণ, কোনো ধরনের আমলে আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দার কাজে শরীক নেই। যেমন- নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি। এ সমস্ত আমল বান্দা একাই করে, কিন্তু দুরূদ শরীফ এমন আমল যার ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা ঘোষনা করেছেন, এ আমল আমি নিজে করেছি সুতরাং তোমরাও কর। তাহলে তোমরা আমার সাথে আমলে শরীক থাকবে।

আল্লাহ তা‘আলা আর মানুষের দুরূদ পাঠ করার উদ্দেশ্য হল, সরাসরি তাঁর প্রতি রহমত বর্ষন করা। আর বান্দার দুরূদ পাঠের উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করা। হে আল্লাহ তা‘আলা! আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি রহমত প্রেরণ করুন।

হাদীস শরীফে আছে, যখন উল্লিখিত আয়াত নাযিল হয়, তখন সাহাবায়ে কেরাম রাযি. রাসূলের কাছে প্রশ্ন করলেন, আমাদেরকে দুটি বিষয়ের শিক্ষা দেয়া হয়েছে সালাম ও দুরূদ। সালামের পদ্ধতি আমাদের জানা আছে, কিন্তু আপনার প্রতি দুরূদ পাঠ করব কিভাবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা এ পদ্ধতিতে দুরূদ পাঠ করবে। হাদীসের কিতাবসমূহে অসংখ্য দুরূদ শরীফের ভান্ডার রয়েছে। কাজেই বুঝা গেলো দুরূদ পাঠের পদ্ধতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিখানো।

দুরূদ শরীফ পাঠ করা মকবুল ইবাদত, আল্লাহ তা‘আলার রহমত, নেকী অর্জন, গুনাহ থেকে মুক্তি, মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ, অন্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুহাব্বত বৃদ্ধি ও তাঁর ঘনিষ্ঠতা অর্জন, আরশের ছায়ায় আশ্রয় লাভ, নবীজির সুপারিশ লাভ, দুনিয়া ও আখেরাতের বিপদ-আপদ থেকে হেফাযত ও নেক মাকাসিদ পূরণ, সালেকীনদের সর্বোত্তম অজিফা, রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুবারক যিয়ারত লাভের আমল, সকল প্রকার সৌভাগ্যের চাবি-কাঠি, ঈমানের সাথে মৃত্যুর উপায়, অধিক সংখ্যক দুরূদ পাঠের বরকতে বর্ণিত হকসমূহ আদায়ে মদদ ও জযবা পয়দা হবে। অনুরূপভাবে দুরূদ পাঠ না করলে অভিশপ্ত, বখীল এবং জান্নাতের রাস্তা ভুলে যাওয়ার হুমকির কথাও হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে

নবীদের স্বাভাবজাত সুন্নাত ১০ টি

নবীদের সুন্নাত সম্পর্কে হযরত আয়শা রাযি. থেকে বর্ণিত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দশটি বস্তু স্বভাবজাত বিষয়ের অন্তরভুক্ত-
১. মোচ ছাঁটা।
২. দাঁড়ি লম্বা করা। (কম পক্ষে এক মুষ্টি)
৩. মেসওয়াক করা।
৪. নাক পরিষ্কার করা।
৫. নখ কাটা।
৬. শরীরের জোড়াসমূহের ময়লা পরিষ্কার করা।
৭. বগলের পশম পরিষ্কার করা।
৮. নাভীর নিচের পশম চেঁছে ফেলা।
৯. পানি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করা।
১০. কুলি করা। -মিশকাত, হাদীস নং- ৪৪; মুসলিম, হাদীস নং- ২৯

কুরআনুল কারিমের কথা প্রবন্ধটি পড়তে ক্লিক করুন
আরো জানতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েব সাইট রাহে সুন্নাত ব্লগ

Leave a Reply

Your email address will not be published.