জরুরী মাসআলা মাসায়েল

জরুরী মাসআলা-মাসায়েল

ইসলাম প্রতিদিন বিবিধ মুআশারাত সংস্কৃতি

জরুরী মাসআলা-মাসায়েল

তাহারাত-পবিত্রতা

প্রশ্ন : কেউ কুলি না করে এবং নাকে পানি দেয়া ছাড়াই গোসল সম্পন্ন করে ফেললে করণীয় কী?

উত্তর : প্রশ্নোক্তক্ষেত্রে স্মরণ হওয়ার পর গরগরার সাথে কুলি করে নিবে এবং নাকের ভিতর পানি পৌঁছাবে। এতেই তাঁর গোসল সম্পন্ন হয়ে যাবে। পুনরায় গোসল করার প্রয়োজন নেই। -সুনানে দারাকুতনী ১/১২২; শরহুল মুনইয়া ৫০

প্রশ্ন : সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত নিলে উযু ভেঙ্গে যাবে কি?

উত্তর : হাঁ, সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত নিলে উযু ভেঙ্গে যাবে। রদ্দুল মুহতার ১/২৩৫; আলবাহরুর রায়েক ১/৬২; শরহে বেকায়া ১/৬৮

সালাত-নামায

প্রশ্ন : নামাযে নিয়ত করার হুকুম কী? এবং নিয়ত দ্বারা উদ্দেশ্য কী? অনারবী মানুষের জন্য আরবীতে নিয়ত করার হুকুম কী? কেউ যদি আরবী বা বাংলায় মুখে উচ্চারণ করা ছাড়া মনে মনে নিয়ত করে নামায আদায় করে, তাহলে তার নামায সহীহ হবে কি?

উত্তর : নামাযে নিয়ত করা ফরয। নিয়ত হলো, অন্তরে নির্দিষ্ট নামাযের সংকল্প করা । মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক নয়। অতএব কেউ যদি শুধু মনে মনে নিয়ত করে, মুখে উচ্চারণ না করে তবুও তার নিয়ত সহীহ হয়ে যাবে । অবশ্য ফকীহগণ বলেন, অন্তরের সংকল্প দৃঢ় করার জন্য মুখেও উচ্চারণ করা ভাল। মুখে উচ্চারণ করলে তা যে কোনো ভাষায় হতে পারে । আর আরবী ভাষায় নিয়ত করার কোনো প্রয়োজন নেই এবং তাতে কোনো বৈশিষ্ট্যও নেই । তাই মুসল্লী নিজ ভাষায় নিয়ত করতে পারবে। বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০৯; রদ্দুল মুহতার ২/৮২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৭৮; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ৬১; ফাতহুল কাদীর ২/২৭২; আল বাহরুর রায়েক ১/৪৮৪

প্রশ্ন : জনৈক মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাযে ভুলে কসর না করে পূর্ণ চার রাকাত পড়ে ফেলেন। উল্লেখ্য, তিনি নামায শেষে সাহু সেজদা আদায় করেননি । জানার বিষয় হলো, তার নামায সহীহ হয়েছে কি?

উত্তর : প্রশ্নোক্ত ব্যক্তি যদি দুই রাকাত পর বৈঠক করে থাকে তবে তার ফরয আদায় হয়ে গেছে। তবে দুই রাকাত পর সালাম না ফিরিয়ে ভুলে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল। যেহেতু তিনি সাহু সিজদা করেননি তাই তাকে উক্ত নামায পুনরায় পড়া ওয়াজিব। মুসলিম শরীফ ১/২৪১; আল হিদায়া ১/১৬৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৯

প্রশ্ন : এক ব্যক্তি সেজদায় গিয়ে উভয় পা উপরে উঠিয়ে ফেলে। জানার বিষয় হলো, সেজদায় গিয়ে উভয় পা বা এক পা উপরে উঠিয়ে ফেললে তার নামাযে কোনো ত্রুটি হবে কি?

উত্তর : সেজদা করার সময় পায়ের আঙ্গুলগুলো জমিনের সাথে লাগিয়ে কেবলামুখী করে রাখা সুন্নত। বিনা উজরে এক পা বা উভয় পা অধিকাংশ সময় উঠিয়ে রাখা মাকরূহ। আর পূর্ণ সেজদায় উভয় পায়ের কোনো অংশ এক তাসবীহ পরিমাণ সময়ও যদি জমিনের সাথে লেগে থাকে তাহলে নামায সহীহ হবে; অন্যথায় নামায শুদ্ধ হবে না। রদ্দুল মুহতার ১/৪৪৭; আল বাহরুর রায়েক ১/৫১১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১২৬

প্রশ্ন : এক ব্যক্তির একাধিক নামায ছুটে গেছে। এখন তার ছুটে যাওয়া নামাযগুলো কাযা করার ক্ষেত্রে সবগুলোর জন্য পৃথক পৃথকভাবে আযান ও ইকামত দেওয়া আবশ্যক? না শুধু প্রথম ওয়াক্তের জন্য আযান ও ইকামত দিলেই যথেষ্ট হবে?

উত্তর : একাধিক কাযা নামায মসজিদে আদায় করলে শুধু ইকামত দিয়ে আদায় করা মুস্তাহাব। মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও একাকী বা জামাতে আদায় করলে আযান ও ইকামত উভয়টি দিয়ে আদায় করা মুস্তাহাব। অবশ্য প্রথমটির জন্য আযান ও ইকামত এবং বাকিগুলোর জন্য শুধু ইকামত দিয়ে আদায় করে নেওয়ারও অবকাশ রয়েছে। মুসনাদে আহমদ ৬/১৭; সুনানে নাসায়ী ১/৭৬; হিদায়া ১/৯০; ফাতহুল কাদীর ১/২৫৮; আলবাহরুর রায়েক ১/৪৫৬

প্রশ্ন : কোনো ব্যক্তি যদি যোহরের চার রাকাত সুন্নত নামাযের নিয়ত করে দুই রাকাত পড়ার পর জামাতে শরিক হওয়ার জন্য সালাম ফিরিয়ে দেয়, তাহলে তার জন্য কি ফরজ আদায়ের পর পুনরায় চার রাকাত সুন্নত আদায় করতে হবে, না দুই রাকাত পড়লেই চলবে?

উত্তর : প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ফরযের পর দুই রাকাত সুন্নত পড়ে পূর্বের চার রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা আদায় করবে। দুই রাকাত আদায় করা যথেষ্ট নয়। -রদ্দুল মুহতার ২/১২; ফাতহুল কাদীর ১/৪৬১; বিনায়া ২/৫১৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৪৬৫; কিফায়াতুল মুফতী ৩/৩২১

প্রশ্ন : মাসবুক ব্যক্তি যদি ভুলে ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেলে, তাহলে তার করণীয় কী?

উত্তর : সাধারণত মুসল্লিগণ ইমাম সাহেবের সালাম শুরু করার পর সালাম ফিরিয়ে থাকে । তাই মাসবূক ভুলে ইমামের সাথে সালাম ফিরালে তার জন্য সাজদা সাহু করা জরুরি। তবে কখনও ইমামের সালামের একেবারে সাথে সাথে সালাম ফিরালে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। রদ্দুল মুহতার ২/৩০১; আল বাহরুর রায়েক ২/১৭৬;, হিন্দিয়া ১/৯১; কাজীখান ১/৯৪; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩৪০

প্রশ্ন : বর্তমান জমানায় দেখা যায় অনেক মসজিদে নাবালেগ বাচ্চারা বড়দের কাতারে দাঁড়ায় জানার বিষয় হলো, নাবালেগ বাচ্চারা বড়দের কাতারে দাঁড়াতে পারবে কি?

উত্তর : হাঁ, ওজু-নামায় বুঝে এমন সমঝদার নাবালেগ বাচ্চা নামাজের কাতারে। বড়দের সঙ্গে দাঁড়াতে পারবে । তদ্রূপ একাধিক হলে পিছনেও দাঁড়াতে পারবে, তবে শুধু বাচ্চারা পিছনের কাতারে দাঁড়ানোর বেলায় যেহেতু পরস্পরের দুষ্টমির কারণে তাদের নামায নষ্ট হওয়ার প্রবল আশংকা রয়েছে এবং বড়দের নামায ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই তাদেরকে বড়দের কাতারের ফাঁকে ফাঁকে দাঁড় করানোই সমীচীন। প্রকাশ থাকে যে, অতি ছোট বাচ্চাদের মসজিদে আনা অনুচিত। রদ্দুল মুহতার ২/৩১৪; বাদয়েউস সানায়ে ১/৫০১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৪৭; আল মুহীতুল বুরহানী ২/২০১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৫১; হিদায়া ১/১২৪ ।

প্রশ্ন : বাসে সফর অবস্থায় যদি নামাযের সময় হয়ে যায় এবং ড্রাইভার বাস না থামায়, এদিকে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশংকা হয়, তবে কি এই অবস্থায় বাসের সিটে বসে ইশারা করে নামায আদায় করা যাবে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর : হাঁ, প্রশ্নোক্ত সুরতে বাসের ভিতরে যেভাবেই সম্ভব হয় নামায আদায় করে নিবে। তবে বাড়িতে ফিরে উক্ত নামায পুনরায় আদায় করতে হবে ।

উল্লেখ্য যে, কোথাও সফরে বের হওয়ার পূর্বে নামাযের পরিকল্পনা করে বের হওয়ার চেষ্টা করবে, যাতে গাড়িতে নামায আদায়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। এছাড়া সম্ভব হলে ড্রাইভারকে নামায আদায়ের সুযোগদানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাসে উঠবে। রদ্দুল মুহতার ২/৪০; হিদায়া ১/১৬২; ফাতহুল কাদীর ২/৮,৯; ইমদাদুল আহকাম ২/৩২৬

প্রশ্ন : মোবাইল ফোন খোলা রেখে নামায পড়ার হুকুম কী?

উত্তর : মোবাইল সেট সাইলেন্ট করে নামায পড়তে অসুবিধা নেই । রিংটোন চালু রেখে মোবাইল ফোন খোলা অবস্থায় নামায পড়া মাকরূহ । তাই লক্ষ্য করে মোবাইল ফোন বন্ধ করে নামায পড়া চাই । একান্ত যদি বন্ধ করতে ভুলে যায় এবং নামাযে ফোন বেজে ওঠে, সে ক্ষেত্রে না দেখে এক হাত ব্যবহার করে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিবে। -তিরমিযী ১/৮৭; সহীহ বুখারী ১/৭৪১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫০৩; আল মুহীতুল বুরহানী ২/১৬২

প্রশ্ন: ইমাম সাহেব এবং মুসল্লিদের কখন দাঁড়ানো সুন্নত? উত্তর : আমদের দেশের পরিবেশে ইক্বামত শুরু হওয়ার আগেই দাঁড়ানো উচিৎ। কারণ কাতার সোজা করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হাদীস শরীফে এসেছে, তোমরা অবশ্যই কাতার সোজা করবে। নতুবা আল্লাহ তাআলা তোমাদের পরস্পরের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে দিবেন। অবশ্য ফোকাহায়ে কেরামের এই বক্তব্য, ‘যদি ইমাম সাহেব মুসল্লিগণের পিছন দিক দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করেন, তাহলে যেই কাতারে ইমাম পৌঁছবে সে কাতারের লোকেরা দাঁড়িয়ে যাবেন। আর যদি ইমাম মেহরাবের দিক থেকে প্রবেশ করেন, তাহলে তাকে দেখার সাথে সাথেই মুসল্লিগণ দাঁড়াবে। কিন্তু ইমাম সাহেব যদি আগ থেকেই উপস্থিত থাকেন, তাহলে মুয়ায্যিন (হাইয়্যা আলাল ফালাহ্) বলার সাথে সাথে দাঁড়াবে। এটা সেই ক্ষেত্রে প্রজোয্য যেখানে মুসল্লিগণ আগে থেকেই কাতার সোজা করে বসে থাকে। তাছাড়া তাদের এই উক্তির অর্থ এই নয় যে, (হাইয়্যা আলাল ফালাহ) বলার পূর্বে দাঁড়ানো যাবে না। বরং উদ্দেশ্য হলো, (হাইয়্যা আলাল ফালাহ্) বলার পরও বসে থাকা মাকরূহ । তাই এর আগে দাঁড়িয়ে কাতার সোজা কোনো অসুবিধা নেই। অতএব যারা ইকামত শুরু হলে দাঁড়ানো থেকে বসে পড়ে এবং ফোকাহা কেরামের ইবারতের অর্থ না বুঝেই (হাইয়্যা আলাল ফালাহ) বলার সময় দাঁড়ানোকে সুন্নত বলে দাবি করে বা কেউ এমন না করলে তাকে তিরস্কার করে, তাদের এ দাবি ও কাজ ঠিক নয়। – নাইলুল আওতার ২/৫৩২; মাআরেফুস সুনান ২/২১২; মুসনাদ আহমদ ৩৭/৩০১; রদ্দুল মুহতার ২/১৫২; আল মুহীতুল বুরহানী ২/১০৫ ।

প্রশ্ন : তাকবীরে উলার ফযীলত কী এবং তার সময়সীমা কতটুকু?

উত্তর : হাদীস শরীফে তাকবীরে ঊলার বিশেষ ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন পর্যন্ত তাকবীরে উলার সাথে নামায আদায় করবে তার জন্য দুটি মুক্তি পরওয়ানা লেখা হবে-

এক. জাহান্নাম থেকে মুক্তি ।

দুই. নেফাক তথা কপটতা থেকে মুক্তি। -সুনানে তিরমিযী-১/৫৬;

আর তাকবীরে উলার সময়সীমার ব্যাপারে ফোকাহায়ে কেরামের একাধিক বক্তব্য রয়েছে তবে সহজ এবং বিশুদ্ধতম বক্তব্য হলো, ইমাম সাহেবকে প্রথম রাকাতে পেলেও তাকবীরে ঊলা পেয়েছে বলে গণ্য হবে এবং বর্ণিত ফযীলতের অধিকারী হবে। অবশ্য উত্তম হলো, ইমাম সাহেব তাকবীর বলার সংগে সংগে তাকবীর বলে জামাতে শরীক হয়ে যাওয়া। -তিরমিযী ১/৫৬; মাআরিফুস সুনান ২/৩৪৯; রদ্দুল মুহতার ১/৫২৬; আল মুহীতুল বুরহানী ২/১০৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৮৪

প্রশ্ন : নারী-পুরুষের নামাযে কোনো পার্থক্য আছে কি?

উত্তর : হাঁ, নারী-পুরুষের নামাযে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। নিম্নে নারীদের নামাযের কিছু পার্থক্য তুলে ধরা হলো-

ক. স্ত্রীলোকের তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠানো ।

খ. হাত কাপড়ের ভিতর থেকে বের না করা।

গ. হাত বুকের উপর রাখা।

ঘ. পুরুষের তুলনায় রুকুতে কম ঝুঁকা।

ঙ. দাঁড়ানো অবস্থায় ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর স্বাভাবিকভাবে রাখা।

চ. রুকুতে উভয় হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে হাঁটুর উপর রাখা। পুরুষের ন্যয় ছড়িয়ে না রাখা।

ছ. রুকুতে উভয় বাহু পাজরের সাথে পরিপূর্ণ মিলিয়ে রাখা ।

জ. রুকুতে উভয় হাত হাঁটুর উপর স্বাভাবিকভাবে রাখা এবং হাতের আঙ্গুলসমুহ মিলিয়ে রাখা।

ঝ. রুকু-সিজদা অবস্থায় উভয় হাঁটু মিলিয়ে রাখা।

ঞ. অত্যন্ত জড়সড়ো ও সংকুচিত হয়ে সিজদাহ করা ।

ট. সিজদার সময় উভয় হাত মাটিতে বিছিয়ে রাখা । পুরুষের ন্যয় কনুইদ্বয় খোলা ও ছড়িয়ে না রাখা।

ঠ. উভয় রানের সঙ্গে পেট মিলিয়ে রাখা ।

ড. তাশাহুদের সময় ডান দিক দিয়ে দুই পা বের করে নিতম্বের উপর ভর দিয়ে বসা।

ঢ. উভয় হাতের আঙ্গুলসমুহকে মিলিয়ে রাখা। এছাড়াও আরো পার্থক্য রয়েছে। ইলাউস সুনান ২/৬৭৫; সহীহ বুখারী ১/১৬০; সহীহ মুসলিম ১/১৮০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ২/৫০৫

প্রশ্ন : ঈদের খুৎবা চলাকালীন ইমামের সাথে সাথে মুসল্লিদের তাকবীরে তাশরীক পড়া জায়েয আছে কি? প্রমাণসহ জানালে উপকৃত হব ।

উত্তর : না, ঈদের খুৎবা চলাকালীন সময়ে ইমামের সাথে সাথে তাকবীরে তাশরীক বা অন্য কোনো তাসবীহ পড়া জায়েয নেই। খুৎবা চলাকালীন চুপ থেকে খুত্বা কোনোা ওয়াজিব। এ প্রসঙ্গে ফাতাওয়া আলমগীরীর মতটি অগ্রহণযোগ্য। হিদায়া ১/১৭১; ফাতাওয়া সিরাজীয়া ১৬০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২০৬; আল বাহরুর রায়েক ২/৪০৬।

জরুরী মাসআলা মাসায়েল
জরুরী মাসআলা মাসায়েল প্রশ্ন উত্তরসহ

সওম-ইতিকাফ

প্রশ্ন : অক্সিজেন গ্রহণের কারণে রোজা নষ্ট হবে কি?

উত্তর : অক্সিজেন গ্রহণের সময় বায়ূ ছাড়া অন্য কোনো জিনিস কণ্ঠনালীতে প্রবেশ না করলে রোজা নষ্ট হবে না । -হেদায়া ১/২১৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৬৪১; হিন্দিয়া ১/২০৫; ফাতাওয়ায়ে উসমানী ২/১৭৯।

প্রশ্ন : আমাদের এক আত্মীয় সৌদী আরব থেকে ত্রিশ রোজা পূর্ণ করে
বাংলাদেশে আসেন । আসার পর দেখেন বাংলাদেশে রোজা ঊনত্রিশটি হয়েছে । জানার বিষয় হলো, এই অবস্থায় তার করণীয় কী?

উত্তর : প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার আত্মীয় দেশে ফেরার পর এলাকার লোকদের সাথে রোজা রাখবে এবং তাদের সাথেই ঈদ করবে। এক্ষেত্রে তার ত্রিশ রোজা পূর্ণ হওয়ার দরুন রোজা না রাখার সুযোগ নেই। রদ্দুল মুহতার ২/৩৮৪; হিদায়া ১/২১৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৬০; ফাতহুল কাদীর ২/৩২৬; ফাতাওয়া উসমানী ২/১৭৭

প্রশ্ন : অনেক এলাকায় রমযান মাসে হাফেজ সাহেবদের মাধ্যমে তারাবীর নামাযে কুরআন শরীফ খতম করানো হয় এবং এর বিনিময়ে তাদেরকে কিছু টাকা দেয়া হয়। জানার বিষয় হলো, এভাবে টাকা দেয়া-নেয়া জায়েয আছে কি? বিনিময় দেয়া ছাড়া যদি কোনো হাফেয না পাওয়া যায় তাহলে কী করবে? যদি বিনিময় দিয়ে তারাবীহ পড়ায় তাহলে সওয়াব লাভ হবে কি?

উত্তর : তারাবীর নামাযে কুরআন শরীফ খতম করে বিনিময় দেয়া ও নেয়া কোনোটিই জায়েয নেই। বিনিময় দেয়া ছাড়া যদি কোনো হাফেজ না পাওয়া যায় তাহলে ‘আলাম তারা’ থেকে শেষ পর্যন্ত সুরাগুলো দ্বারা (সূরা তারাবীহ) নামায পড়ে নিবে। সুরা বাকারা ১৪; মুসনাদে আহমদ ২৪/ ২৯৫; রদ্দুল মুহতার ৬/৫৫-৬৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪৪৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১১৪; ইমদাদুল আহকাম ২/২৬৯; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৪৮৪

যাকাত-সদকা

প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তি কবরস্থানের উন্নয়নের জন্য যাকাত আদায়ের নিয়তে ৫০,০০০/ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা দিল । এক্ষেত্রে জানার বিষয় হলো, উক্ত ব্যক্তির যাকাত আদায় হয়েছে কি?

উত্তর : না, প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির যাকাত আদায় হয়নি। কারণ যাকাতের টাকা কবরস্থানের উন্নয়ন খাতে ব্যয় করলে যাকাত আদায় হয় না। ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৩৫; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ১৫৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৭৭; ফতহুল কাদীর ২/২৭২; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৩/৬১।

প্রশ্ন : শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত মেশিনের যাকাত দিতে হবে কি?

উত্তর : না, শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত মেশিনের যাকাত দিতে হবে না। -রদ্দুল মুহতার ৩/১৭১; হেদায়া ১/১৮৬; আল বাহরুর রায়েক ২/৩৬১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪০২; হিন্দিয়া ১/১৭২; কাজীখান ১/২১৭

হজ্ব-উমরা

প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তির উপর হজ্ব ফরজ হওয়া সত্ত্বেও হজ্ব করেনি। পরবর্তীতে ঘটনাক্রমে উক্ত ব্যক্তি একেবারে গরীব হয়ে যায়। এখন হজ্ব করার মত তার কোনো আর্থিক সামর্থ্য নেই। জানার বিষয় হলো, উক্ত ব্যক্তির উপর এখন হজ্ব। আদায় করা ফরজ রয়েছে কি না?

উত্তর : হাঁ, প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির যিম্মায় তার পূর্বের ফরজ হজ্ব এখনো রয়ে গেছে, তাই যে কোনোভাবে টাকার ব্যবস্থা করে উক্ত ফরজ হজ্ব আদায় করা জরুরি । (এক্ষেত্রে ঋণ ছাড়া যদি টাকার ব্যবস্থা না হয় সেক্ষেত্রে ঋণ করে হলেও তার জন্য উক্ত ফরজ হজ্ব আদায় করা উচিৎ, যদি ঋণ পরিশোধ করার মত আত্মবিশ্বাস থাকে। আর তাও সম্ভব না হলে বদলী হজ্জের অসীয়ত করে যেতে হবে। -ফাতহুল কাদীর ২/৪১৫; রদ্দুল মুহতার ৩/৪০৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২১৫; আল বাহরুর রায়েক ২/৫৪৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৮০।

কুরবানী-আকীকা

প্রশ্ন : গত বৎসর আমরা ছয় ভাই মিলে একটি গরু কুরবানী করি, যার ছয় ভাগ ছয় ভাইয়ের নামে এবং এক ভাগ আমাদের মরহুম পিতার নামে ছিল এবং টাকা সকলেই সমান সমান করে দিয়েছিলাম। জানার বিষয় হলো, বাবার নামের উক্ত কুরবানীসহ আমাদের সকলের কুরবানী সঠিক হয়েছে কি?

উত্তর : হাঁ, আপনাদের মৃত পিতার নামের অংশসহ সকলের কুরবানীই সঠিক হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে উত্তম পন্থা হলো, পিতার অংশের টাকা সকলে মিলে এক ভাইকে দান করে দিবে। অতপর সে একা উক্ত অংশ পিতার নামে কুরবানী করবে। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৫০; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯; আল বাহরুর রায়েক ৮/৩২৫।

নিকাহ-তালাক

প্রশ্ন : আমাদের গ্রামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে এক শব্দে তিন তালাক দেয় সে বলে যে, ‘আমি তোমাকে তিন তালাক দিলাম’। জানার বিষয় হলো, এই অবস্থায় তার স্ত্রীর উপর কয় তালাক পতিত হবে?

উত্তর : প্রশ্নোক্ত সুরতে উক্ত ব্যক্তির স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়ে বিবাহ বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেছে । স্ত্রী হারাম হয়ে গিয়েছে। তওবা করা কিংবা নতুন করে বিবাহ পড়িয়ে নেয়ার দ্বারা স্ত্রী হালাল হবে না। তবে ইদ্দত শেষ হওয়ার পর স্ত্রী যদি অন্য কোথাও বিবাহ বসে এবং সে স্বামী মরে যায় কিংবা তাকে তালাক দিয়ে দেয় সে ক্ষেত্রে তার ইদ্দত পূর্ণ করার পর সে প্রথম স্বামীর সাথে দ্বিতীয়বার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। -মুসলিম শরীফ ১/৪৭৭; ফাতহুল কাদীর ৩/৪৫১; রদ্দুল মুহতার ৩/২৩৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪২০; হিদায়া ২/৩৫৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/৩৯৪; ফাতাওয়া উসমানী ২/১৩৮

প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তি বিদেশে থাকে । সে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিবাহ করতে চায়। দেশে বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত কনেপক্ষ দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মোবাইল লাউড স্পিকার দিয়ে তার কবুলের আওয়াজ শুনে । জানার বিষয় হলো, এভাবে বিবাহ হলে বিয়ে শুদ্ধ হবে কি?

উত্তর : না, এভাবে বিবাহ শুদ্ধ হবে না। কেননা বিবাহ শুদ্ধতার জন্য শর্ত হলো, বিবাহ চুক্তির একই মজলিশে বর-কনে কিংবা তাদের প্রতিনিধি সশরীরে উপস্থিত থেকে দুইজন সাক্ষীর সামনে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করা। প্রশ্লোক ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের বিবাহের পদ্ধতিতে আকদের মজলিসের ভিন্নতার কারণে উক্ত শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে ইজাব-কবুল সম্পন্ন হয় না। এ ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি হলো, প্রবাসী ব্যক্তি তার পক্ষ থেকে বিবাহের ইজাব বা কবুল করার জন্য ফোনে কাউকে উকিল নিযুক্ত করবে, আর সে আকদের মজলিসে সাক্ষীদের সামনে প্রবাসী ব্যক্তির পক্ষে ইজাব বা কবুল করার মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করবে। রদ্দুল মুহতার ৪/৭৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৬৯; ফাতহুল কাদীর ৩/১৮৪

প্রশ্ন : নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির তালাক পতিত হবে কি? এ ব্যাপারে শরীয়তসম্মত সঠিক সমাধান চাই।

উত্তর : হাঁ, নেশাগ্রস্থ ব্যক্তি তালাক দিলে তার তালাক পতিত হবে। -সুনানে তিরমিযী ১/২২৫; রদ্দুল মুহতার ৩/২২৯ আল হিদায়া ২/২৩৫; ফাতাওয়া কজীখান ১/৪১৪: আহসানুল ফাতাওয়া ৫/১৮২; ফাতাওয়া উসমানী ২/৩২৭

প্রশ্ন : কোনো মহিলা যদি তার প্রথম স্বামী থেকে তালাক না নিয়ে, অন্য কোনো পুরুষের সাথে পালিয়ে গিয়ে তাকে বিবাহ করে, তাহলে তাদের বিবাহ সহীহ হবে কি?

উত্তর : না, সহীহ হাবে না। কেননা কোনো মহিলার জন্য প্রথম স্বামীর বিবাহ
বহৃনে থাকাবস্থায় অন্য কোনো পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েখ
নেই। -সুরায় নিসা ২৪: তিরমিয়াঁ ১/২১৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৮০ বাদায়েউস সানায়ে ৩/৪৩৬; আল মুহীতুল বুরহানী ৪/৪৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৬৬; রদ্দুল মুহতার ৩/১২৩ ।

ওয়াকফ

প্রশ্ন : আমাদের মহল্লার মসজিদের কয়েকটি ওয়াকফকৃত জমি মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য কমিটি বিক্রি করেছে। কিন্তু এখনো বিক্রির রেজিষ্ট্রেশন করা হয়নি। জানার বিষয় হলো, মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য এর ওয়াকফকৃত জমি বিক্রি করা জায়েয হয়েছে কি? নাজায়েয হলে এখন মসজিদ কমিটির জন্য করণীয় কী? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর : না, মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য এর ওয়াক্‌ষ্ণকৃত জমি বিক্রি করা জায়েয হয়নি। প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী এখনো যেহেতু বিক্রিত জমিটির রেজিষ্ট্রেশন হয়নি তাই ক্রেতাকে জমি বাবদ তার প্রদত্ত মূল্য ফিরিয়ে দিয়ে পূর্বের কৃত ক্রয়-বিক্রয় রহিত করতে হবে -আল হিদায়া ২/৬৪০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৫২; ফাতহুল ক্বাদীর ৬/২০৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৮/১৮১

বিবিধ

প্রশ্ন : আমাদের দেশে বিভিন্ন জিনিসের তৈরী মূর্তি-ভাস্কর্য পাওয়া যায়। যা বাসা-বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাজিয়ে রাখা হয়। এমনকি চৌরাস্তাসমূহে বিভিন্ন প্রাণী তথা পাখি, ঘোড়া ও মানুষের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। প্রশ্ন হলো, এসব প্রতিকৃতি-ভাস্কর্য ক্রয় করা, সাজিয়ে রাখা ও স্থাপন করা জায়েয আছে কি?

উত্তর : প্রাণীর মূর্তি, প্রতিকৃতি ও ভাস্কর্য তৈরী করা হারাম। এগুলো ক্রয় বিক্রয় করা, প্রদর্শনী করা বা ঘরে দৃশ্যমান অবস্থায় সাজিয়ে রাখা সম্পূর্ণরূপে নিষেধ। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর ধমক এসেছে। ইরশাদ হয়েছে- ছবি নির্মাতাগণ কিয়ামতের দিন সর্বাধিক শাস্তিতে নিপতিত হবে। -সহীহ বুখারী : ২/৮৮০ সুতরাং এসব থেকে বিরত থাকা খুবই জরুরি। – সুরা মায়েদা ৯ বুখারী ২/৮৮০; ফাতহুল বারী ১১/৪৬৬, তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ১০/১৩৬, রদ্দুল মুহতার ১/৬৪৭; হিন্দিয়া ৫/৩৫৯।

প্রশ্ন : কিছু দিন পূর্বে আমাদের এলাকার সাবালিকা এক মেয়ে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। ফলে তার জানাযার নামায পড়া নিয়ে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়। কিছু লোক তার জানাযার নামায নিয়ে আপত্তি তুলে জানাযায় অংশগ্রহণ করেনি। প্রশ্ন হলো, আত্মহত্যাকারীর জানাযার নামায পড়ার ক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা কী?

উত্তর : আত্মহত্যাকারীকেও গোসল দিতে হবে এবং তার জানাযার নামায পড়তে হবে । তবে তার জানাযার নামাযে সমাজের অনুকরণীয় উলামায়ে কেরাম উপস্থিত না হয়ে সাধারণ লোকজন দ্বারা পড়িয়ে তার কাফন-দাফনের কাজ সম্পন্ন করবে, যাতে অন্যদের জন্য তা শিক্ষণীয় হয়। -সহীহ মুসলিম ১/৩১৪; রদ্দুল মুহতার ২/২১১; হিন্দিয়া ১/১৬৩; আল মুহিতুল বুরহানী ৩/৮৩; তাতারখানিয়া ৩/৫৬; ফাতহুল কাদির ২/১০৯; আল ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিলাতুহু ২/৪২৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২১৭; ফাতাওয়া নাওয়াযেল ৮৭

প্রশ্ন : অনেক মসজিদে জুমার দিন খুতবার সময় কাতারের মাথায় রাখা দানবাক্স চালিয়ে দেয়া হয়। প্রশ্ন হলো, খুতবার সময় এভাবে দানবাক্স চালানো জায়েয আছে কি?

উত্তর : না, খুতবার সময় দানবাক্স চালানো জায়েয নয়। এক্ষেত্রে মসজিদের মোতাওয়াল্লী বা খতীব সাহেব বাক্স চালানোর জন্য ভিন্ন কোনো সময় নির্ধারণ করে দিবে। -সহীহ বুখারী ১/১২৭; ফাতহুল কাদীর ২/৬৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১১/২০৮; আল বাহরুর রায়েক ২/২৭২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৩৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৭২।

প্রশ্ন : মহিলারা পরপুরুষের সামনে চেহারা খোলা রাখতে পারবে কি? পুরুষের জন্য বেগানা মহিলার চেহারা দেখা জায়েয আছে কি? অনেকে বলে মহিলারা চেহারা খোলা রাখতে পারবে এবং পুরুষও বেগানা মহিলার চেহারা দেখতে পারবে, তাদের এই কথা কতটুকু সঠিক?

উত্তর: মহিলাদের জন্য পরপুরুষের সামনে চেহারা খোলা জয়েয নয় এবং পুরুষের জন্যও বেগানা মহিলার চেহারা দেখা জায়েয নয়। কারণ চেহারা বা অন্য কোনো অংশ খোলা রাখা বা দেখা জায়েয হওয়ার পূর্বশর্ত হলো, তা সতর এবং কামুদ্দীপক না হওয়া। চেহারা সতর না হলেও কামুদ্দীপক তো বটেই। তাই চেহারা খোলা রাখা বা দেখা কোনোভাবেই জায়েয হবে না। যারা জায়েয বলেন, তাদের কথা ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর। উল্লেখ্য, সাক্ষদানের প্রয়োজন হলে বা প্রচ- ভিড়ে চেহারা ঢেকে রাখা ক্ষতিকর মনে হলে, পরপুরুষের সমনেও চেহারা খুলতে পারবে। -সুরায় নূর ৩১; রুহুল মায়ানী ২২/৩৫৪; মেরকাত ৬/২৫২; আল বাহরুর রায়েক ৮/৩৫২; ফাতহুল কাদীর ১/২৬৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৩০৭: ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/৯৫

প্রশ্ন : পুরুষের জন্য মেহেদী ব্যবহার করার হুকুম কী?

উত্তর : পুরুষের জন্য দাড়ি বা চুল ব্যতীত শরীরের অন্য কোনো অঙ্গে মেহেদী ব্যবহার করা মাকরূহ। -আবু দাউদ ২/৫৬০; রদ্দুল মুহতার ১/৬০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৫৯; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩১৫: আল মুহীতুল বুরহানী ৮/৮৮

প্রশ্ন : মুরগী জবাই করে ড্রেসিং করলে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্য আছে কি?

উত্তর : আমাদের দেশে সাধারণত কুসুম গরম পানি দিয়ে মুরগী ড্রেসিং করা হয়ে থাকে। তাই ড্রেসিং করা মুরগী খেতে শরয়ী দৃষ্টিতে কোনো অসুবিধা নেই। অবশ্য অতিরিক্ত গরম বা ফুটন্ত পানি দিয়ে ড্রেসিং করলে সেক্ষেত্রে মুরগীর গোশতের সাথে নাপাকের সংমিশ্রণ হওয়ার প্রবল আশংকা থাকায় তা খাওয়া জায়েয হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ১/২৯৪; হাশিয়াতু ইবনে আবিদীন ১/৪৭২; ফাতহুল কাদীর ১/২১১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪২

প্রশ্ন : লোক মুখে শুনা যায় জুমুআর দিন বা রাতে যদি কোনো ব্যক্তি মারা যায়, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত তার কবরের আযাব মাফ। কথাটি কতটুকু সঠিক?

উত্তর : হাঁ, একাধিক হাদীস শরীফের বর্ণনায় এসেছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি জুমুআর দিনে বা রাতে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে সে কবরের আযাব এবং এর প্রশ্নোত্তর থেকে নিরাপদ থাকে। সুতরাং লোকমুখে প্রসিদ্ধ কথাটি সঠিক। তিরমিযী শরীফ ১/২০৫; মেরকাতুল মাফাতীহ ৩/৪১৫; রদ্দুল মুহতার ৩/৭৭

প্রশ্ন : সেন্ট ব্যবহার করা জয়েয আছে কি? এ ব্যাপারে কেউ বলেন জায়েয, কেউ বলেন নাজায়েয। সঠিক মতটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : সাধারণত সেন্টে অ্যালকোহল থাকে, তাই তা ব্যবহার না করাই ভালো। সেন্টের পরিবর্তে আতর ব্যবহার করা চাই। অবশ্য কেউ ব্যবহার করলে তা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা অনুচিত। তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৯/৫০৬; রদ্দুল মুহতার ১/১৫১; আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু ৮/২৮


মাহে জিলহজ্ব ও কুরবানীর ফযীলত করণীয় ও বর্জনীয় || রাহে সুন্নাত ব্লগ

উলামায়ে কেরাম : মর্যাদা, দা‌য়িত্ব ও কর্তব্য

কুরআনুল কারিমের কথা প্রবন্ধটি পড়তে ক্লিক করুন
আরো জানতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েব সাইট রাহে সুন্নাত ব্লগ

Leave a Reply

Your email address will not be published.