বাদশাহ যুল-কারনাইন, King Zul-Qarnain

বাদশাহ যুল-কারনাইন, King Zul-Qarnain. Abu Tasnim Umaire রাহে সুন্নাত ব্লগ

ইতিহাস ও জীবনী জীবনের গল্প মনীষী চরিত

বাদশাহ যুল-কারনাইন, King Zul-Qarnain

বাদশাহ যুল-কারনাইন, King Zul-Qarnain

وَيَسْأَلُونَكَ عَنْ ذِي الْقَرْنَيْنِ قُلْ سَأَتْلُو عَلَيْكُمْ مِنْهُ ذِكْرًا (83)  إِنَّا مَكَّنَّا لَهُ فِي الْأَرْضِ وَآَتَيْنَاهُ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ سَبَبًا (84) فَأَتْبَعَ سَبَبًا (85) حَتَّى إِذَا بَلَغَ مَغْرِبَ الشَّمْسِ وَجَدَهَا تَغْرُبُ فِي عَيْنٍ حَمِئَةٍ وَوَجَدَ عِنْدَهَا قَوْمًا قُلْنَا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِمَّا أَنْ تُعَذِّبَ وَإِمَّا أَنْ تَتَّخِذَ فِيهِمْ حُسْنًا (86) قَالَ أَمَّا مَنْ ظَلَمَ فَسَوْفَ نُعَذِّبُهُ ثُمَّ يُرَدُّ إِلَى رَبِّهِ فَيُعَذِّبُهُ عَذَابًا نُكْرًا (87) وَأَمَّا مَنْ آَمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُ جَزَاءً الْحُسْنَى وَسَنَقُولُ لَهُ مِنْ أَمْرِنَا يُسْرًا (88) ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا (89) حَتَّى إِذَا بَلَغَ مَطْلِعَ الشَّمْسِ وَجَدَهَا تَطْلُعُ عَلَى قَوْمٍ لَمْ نَجْعَلْ لَهُمْ مِنْ دُونِهَا سِتْرًا (90) كَذَلِكَ وَقَدْ أَحَطْنَا بِمَا لَدَيْهِ خُبْرًا (91) ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا (92) حَتَّى إِذَا بَلَغَ بَيْنَ السَّدَّيْنِ وَجَدَ مِنْ دُونِهِمَا قَوْمًا لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ قَوْلًا (93) قَالُوا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِنَّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ فَهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجًا عَلَى أَنْ تَجْعَلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ سَدًّا (94) قَالَ مَا مَكَّنِّي فِيهِ رَبِّي خَيْرٌ فَأَعِينُونِي بِقُوَّةٍ أَجْعَلْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ رَدْمًا (95) آَتُونِي زُبَرَ الْحَدِيدِ حَتَّى إِذَا سَاوَى بَيْنَ الصَّدَفَيْنِ قَالَ انْفُخُوا حَتَّى إِذَا جَعَلَهُ نَارًا قَالَ آَتُونِي أُفْرِغْ عَلَيْهِ قِطْرًا (96) فَمَا اسْطَاعُوا أَنْ يَظْهَرُوهُ وَمَا اسْتَطَاعُوا لَهُ نَقْبًا (97)  قَالَ هَذَا رَحْمَةٌ مِنْ رَبِّي فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ رَبِّي جَعَلَهُ دَكَّاءَ وَكَانَ وَعْدُ رَبِّي حَقًّا (98)  الكهف
 

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলার বাণী ঃ “ ওরা তোমাকে যুল-কারনাইন সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করবে। বল, আমি তোমাদের নিকট তার বিষয় বর্ণনা করব। আমি তাকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দিয়েছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের উপায়-উপকরণ দান করে ছিলাম। অতঃপর সে এক পথ অবলম্বন করল। চলতে চলতে সে যখন সূর্যের অস্তগমন স্থানে পৌঁছল তখন সে সূর্যকে এক পংকিল জলাশয়ে অস্তগমন করতে দেখল এবং সে সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেল। আমি বললাম, ‘ হে যুল-কারনাইন! তুমি এদেরকে শাস্তি দিতে পার অথবা এদের ব্যাপারে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার।’ সে বলল, ‘ যে কেউ সীমালংঘন করবে, আমি তাকে শাস্তি দিব, অতঃপর সে তার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে এবং তিনি তাকে কঠিন শাস্তি দিবেন। তবে যে ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে তার জন্যে প্রতিদান স্বরূপ আছে কল্যাণ এবং তার প্রতি ব্যবহারে আমি নম্র কথা বলব।

আবার সে এক পথ ধরল। চলতে চলতে যখন সে সূর্যোদয় স্থলে পৌঁছল, তখন সে দেখ তা এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদয় হচ্ছে যাদের জন্যে সূর্যতাপ হতে কোন অন্তরাল আমি সৃষ্টি করিনি। প্রকৃত ঘটনা এটাই, তার বৃত্তান্ত আমি সম্যক অবগত আছি। আবার সে এক পথ ধরল। চলতে চলতে সে যখন দুই পর্বত প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থলে পৌছল, তখন সেখানে সে এক সম্প্রদায়কে পেল যারা তার কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না। তারা বলল, হে যুল-কারনাইন! ইয়াজুজ ও মাজুজ পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করছে; আমরা কি তোমাকে কর দিব এই শর্তে যে, তুমি আমাদের ও তাদের মধ্যে এক প্রাচীর গড়ে দিবে? সে বলল, আমার প্রতিপালক আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছেন তা-ই উৎকৃষ্ট; সূতরাং তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর, আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যস্থলে এক মজবুত প্রাচীর গড়ে দিব। তোমরা আমার নিকট লৌহ পি-সমূহ আনয়ন কর, অতঃপর মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান পূর্ণ হয়ে যখন লৌহস্তুপ দুই পর্বতের সমান হল তখন সে বলল, তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক। যখন তা আগুনের মত উত্তপ্ত হল, তখন সে বলল, তোমরা গলিত তামা আনয়ন কর, আমি তা ঢেলে দিই এর উপর। এরপর তারা তা অতিক্রম করতে পারল না বা ভেদ করতেও পারল না। সে বলল, এটা আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ। যখন আমর প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে তখন এটাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি সত্য।” সূরা কাহফ ঃ আয়াত ৮৩-৯৩

আল্লাহ তাআলা এখানে বাদশাহ যুল-কারনাইন এর বর্ণনা দিয়েছেন। তাকে তিনি ন্যায়-পরায়ন বলে প্রশংসা করেছেন। প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তিনি অভিযান পরিচালনা করে ছিলেন। সমস্ত ভূ-খ-ের উপর তিনি বিজয় লাভ করে ছিলেন। সকল দেশের অধিবাসীরা তাঁর আনুগত্য স্বীকার করেছিল। তাদের মধ্যে তিনি পূর্ণ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বস্তুত তিনি আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রাপ্ত এক সফল ও বিজয়ী বীর এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারী বাদশাহ। তাঁর সম্পর্কে বিশুদ্ধ কথা হল, তিনি একজন ন্যায়-পরায়ন বাদশাহ। অবশ্য কারো কারো মতে তিনি নবী, কারো মতে তিনি রাসূল। তাঁর সম্পর্কে একটি বিরল মত হচ্ছে, তিনি ফেরেশতা। এই শেষোক্ত মতটি আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. থেকে শ্রুত হয়ে বর্ণিত হয়েছে। কেননা হযরত উমর রাযি. একদিন শুনতে পেলেন যে, এক ব্যক্তি অপর একজনকে বলছে, হে যুল-কারনাইন! তখন তিনি বললেন, থাম, যে কোন একজন নবীর নামে নাম রাখাই যথেষ্ট, ফেরেশতার নামে নাম রাখার কী প্রয়োজন? সুহাইলী এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

ওকী‘ মুজাহিদের সূত্রে আবদুল্লাহ ইবন আমর রাযি. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যুল-কারনাইন নবী ছিলেন। হাফিজ ইবন আসাকির হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- আমি জানি না, তুব্বা বাদশাহ অভিশপ্ত ছিল কি না; আমি এটাও জানি না যে, শরয়ী শাস্তি দ্বারা দ-প্রাপ্তের গুনাহ  মাফ হবে কি না; আমি জানি না, যুল-কারনাইন নবী ছিলেন কি না; এ হাদীস উপরোক্ত সনদে গরীব।

ইসহাক ইবন বিশর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, যুল-কারনাইন ছিলেন একজন ধার্মিক বাদশাহ। আল্লাহ তাআলা তাঁর কাজ-কর্মে সন্তুষ্ট ছিলেন নিজ কিতাবে তিনি তাঁর প্রশংসা করেছেন। তিনি ছিলেন আল্লাহর সাহায্য প্রাপ্ত। হযরত খিজির আ. ছিলেন তাঁর উযীর। তিনি আরো বলেছেন যে, খিযির আ. থাকতেন তাঁর সেনাবাহিনীর অগ্রভাগে। বর্তমান কালে বাদশাহর নিকট উযীরের যেই স্থান, যুল-কারনাইনের নিকট হযরত খিযিরের ছিল ঠিক সেইরূপ উপদেষ্টার মর্যাদা।

আযরকী প্রমুখ ঐতিহাসিকগণ লিখেছেন যে, যুল-কারনাইন হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আ. এর নিকট ইসলাম গ্রহন করেন এবং হযরত ইবরাহীম আ. সাথে তিনি ও ইসমাঈল আ. একত্রে কা‘বা শরীফ তাওয়াফ করেন।

উবাইদ ইবনে উসাইর তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ ও অন্যান্য বর্ণনাকারী বলেছেন যে, যুল-কারনাইন পদব্রজে হজ্ব পালন করেন। ইবরাহীম আ. তাঁর আগমনের সংবাদ পেয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাত করেন, তাঁকে দু‘আ করেন ও তাঁর উপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। আল্লাহ তাআলা মেঘপুঞ্জকে যুল-কারনাইনের অনুগত করে দিয়েছিলেন। যেখানে তিনি যেতে চাইতেন মেঘমালা তাকে সেখানে বহন করে নিয়ে যেত।

বাদশাহ যুল-কারনাইন নামকরণের কারণ?

বাদশাহ যুল-কারনাইন ব্যাপারে ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেছেন। কারো মতে তাঁর মাথায় দুইটি শিং-এর মত ছিল এ কারণে তাকে যুল-কারনাইন (দুই শিংওয়ালা) বলা হয়েছে।

কোন কোন আহলে কিতাব বলেছেন, যেহেতু তিনি রোম ও পারস্য এই উভয় সা¤্রাজ্যের স¤্রাট ছিলেন তাই তাকে এরূপ উপাধি দেয়া হয়েছে।

কেউ বলেন, যেহেতু তিনি সূর্য্যরে দুই প্রান্ত পূর্ব ও পশ্চিম এবং এর মধ্যবর্তী সমস্ত জায়গার একচ্ছত্র বাদশাহ ছিলেন, তাই তাকে এই নামে ভুষিত করা হয়েছে।

ইমাম ছাওরী রহ. হযরত আলী ইবনে আবি তালেব রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, জনৈক ব্যক্তি হযরত আলী রাযি. কে যুল-কারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যুল-কারনাইন আল্লাহ তাআলার এক সৎ বান্দা। আল্লাহ তাআলা তাকে উপদেশ দেন। তিনি উপদেশ কবুল করেন। তিনি তার সম্প্রদায়কে আল্লাহ তাআলার দিকে আহ্বান করেন। তারা তাঁর একটি শিং এর উপর আঘাত করে। ফলে তিনি মারা যান। আল্লাহ তাআলা তাকে জীবিত করেন। আবারও তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন। তখন তারা তার অপর শিং এর উপর আঘাত করে। এ আঘাতেও তিনি মারা যান। এখান থেকে তাকে যুল-কারনাইন বলা হয়ে থাকে। শু‘বা আল-কাসিমও হযরত আলী রাযি. থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবুত তুফাইল হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণনা করে বলেন, যুল-কারনাইন নবী, রাসূল বা ফেরেশতা কোনটিই ছিলেন না। তিনি একজন পূণ্যবান ব্যক্তি।

বাদশাহ যুল-কারনাইন এর আসল নাম কি?

যুল-কারনাইন এর আসল নাম কি ছিল সে ব্যাপারে বিভিন্ন  রকম বর্ণনা পাওয়া যায়। যুবাইর ইবন বাককার ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর নাম আবদুল্লাহ ইবনে যাহহাক ইবন মাআদ। কারও বর্ণনা মতে, মুসআব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কিনান ইবনে মানসূর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আযদ ইবনে আওন ইবনে নাবাত ইবনে মালিক ইবনে যায়দ ইবনে কাহলান ইবনে সাবা ইবনে কাহতান। একটি হাদীসের বর্ণনায় আছে যে, যুল-কারনাইন হিময়ান গোত্রভুক্ত ছিলেন। তাঁর মা ছিলেন রোম দেশীয়। প্রখর জ্ঞানের অধিকারী হওয়ায় যুল-কারনাইনকে ইবনুল ফায়লাসুফ বা মহাবিজ্ঞানী বলা হত। হিময়ার গোত্রের জনৈক কবি তাদের পুর্ব-পুরুষ যুল-কারনাইন এর প্রশংসায় নিম্ন রূপ গৌরবগাঁথা লিখেন-

 

قد كان ذو القرنين جدى مسلما ** ملكا تدين له الملوك وتحشد

بلغ المشارق والمغارب يبتغى ** اسباب امر من حكيم مرشد

فراى مغيب الشمس عند غروب ** فى عين ذى خلب وثأط حرمد

من بعده بلقيس كانت عمتى** ملكتهم حتى اتاها الهدهد

অর্থ- বাদশাহ যুল-কারনাইন ছিলেন আমার পিতামহ, মুসলমান ও এমন এক বাদশাহ। অন্যান্য রাজন্যবর্গ তাঁর বশ্যতা স্বীকার করে ও তাঁর নিকট আত্মসমর্পন করেন। তিনি অভিযানের পর অভিযান পরিচালনা করে পৃথিবীর পূর্ব পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত পৌছেন এবং মহাজ্ঞনী পথপ্রদর্শক আল্লাহর প্রদত্ত উপায়-উপরণ অনুসন্ধান করেন। পশ্চিমে সূর্যের অস্তাচলে গিয়ে সেখানে সূর্যকে এক কর্দমাক্ত কাল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখেন। তার পরে আসেন সম্রাজ্ঞী বিলকীস। তিনি ছিলেন আমার ফুফু। বিশাল রাজ্যের অধিকারী হন তিনি। ‘সুলাইমানের হুদহুদ পাখীর আগমন পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত প্রতাপের সাথে রাজ্য পরিচালনা করেন। সুহাইলী লিখেছেন, কেউ কেউ তাঁর নাম বলেছেন মারযুবান ইবনে মারযুবা। ইবনে  হিশাম এ কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি অন্যত্র যুল-কারনাইন এর নাম লিখেছেন : আস-সা‘ব ইবনে যী-মারাইদ। তুববা বংশের ইনিই প্রথম বাদশাহ। বীরুস্ সাবার ঘটনায় তিনি ইবরাহীম আ. এর পক্ষে ফয়সালা দিয়েছিলেন। 

চলবে…….
 
কুরআনুল কারিমের কথা প্রবন্ধটি পড়তে ক্লিক করুন
আরো জানতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েব সাইট রাহে সুন্নাত ব্লগ
 
জুমআর দিনের আমল সমূহ | The Deeds Of The Day Of Jumu’ah
সালেকীনদের নিয়মিত আমল ‘জবানী যিকির’ Regular Period Of Salekin

Leave a Reply

Your email address will not be published.