রূহানী শক্তি || Rahe Sunnat-রাহে সুন্নাত

ইসলাম প্রতিদিন প্রবন্ধ-নিবন্ধ রাহে সুন্নাত

রূহানী শক্তি

রূহানী শক্তি সঞ্চারের জন্য দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে । এই রোগের চিকিৎসা কোন কঠিন বিষয় নয় বরং সহজ। শুধু প্রয়োজন দুটি বিষয়ে যত্নবান হওয়া।
প্রথম বিষয় হলো- যেমনিভাবে শারীরিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগ দূর করার জন্য প্রথমত ঔষধ দেয়া হয়। অত:পর অসুস্থ্যতার কারনে শরীরে যে দুর্বলতা এসেছে তা দূর করার জন্য শক্তি বর্ধক ঔষধ করতে হয় যেন দেহে শক্তির সঞ্চার হয়। অনুরূপভাবে অন্তরের চিকিৎসার ক্ষেত্রে। প্রথমে মূল রোগের চিকিৎসা করতে হবে। অত:পর দ্বীনদারীর দিক থেকে তাঁর মধ্যে যে দ্বীনি দূর্বলতা এসেছে তা দূর করার জন্য রূহানী শক্তিবর্ধক ঔষধ সেবন করতে হবে যেন তার মাঝে দ্বীনি শক্তি সঞ্চার হয়।

এই উম্মতের আসল রোগ হলো গোনাহ। কাজেই সর্ব প্রকার গুনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে। এক একটি গোনাহের মাঝে এত মারাত্মক ক্ষতি যে,  মানুষের দ্বীনি জিন্দেগী  ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট। বর্তমানে নেক কাজের শেষ নাই । মানুষ নেক কাজে আগ্রহের সাথে অংশগ্রহণও করছে। তারপরও বিভিন্ন বালা-মুসিবত আসছে। আজ উম্মতের অধ:পতন ও ধ্বংসের মূল কারণ একটাই আর তা হলো গোনাহের আধিক্যতা। এজন্য প্রথম কাজ হলো গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা।
দ্বিতীয় বিষয় হলো-তিনটি সহজ সুন্নাতের উপর ইহতিমামের সাথে আমল করা। যার উপর আমল করার বরকতে অন্যান্য সুন্নাতের উপর আমল করার আগ্রহ সৃষ্টি হবে, সুন্নাতের উপর আমল করা সহজ হয়ে যাবে।
প্রথম সহজ সুন্নত-আগে আগে সালাম করা, বেশী বেশী সালাম করা, চাই পরিচিত হোক অথবা অপরিচিত। সাধারণত মানুষ সালামের শুরুর হামযা ও মীমের পেশকে স্পষ্ট করে আদায় করে না। উভয়টাকে বিশুদ্ধভাবে উচ্চারণ করে সালাম প্রদান করা।
দ্বিতীয় সহজ সুন্নত-প্রত্যেক উত্তম কাজ ও উত্তম স্থানে ডান দিককে আগে বাড়ানো। তুলনামূলক নি¤œমানের কাজ ও নি¤œমানের স্থানে বাম দিককে প্রাধান্য দেয়া। উদাহরণ স্বরূপ কাপড় পরিধান করার সময় ডান দিক থেকে আগে পরিধান করা এবং খোলার সময় বাম দিক থেকে কাপড় খোলা আরম্ভ করা।
তৃতীয় সহজ সুন্নত-বেশী বেশী আল্লাহ তায়ালার জিকির করা। যে সমস্ত নামাযের পর সুন্নাত নাই সাথে সাথে, আর যে সমন্ত নামাযের পর সুন্নাত আছে সুন্নাত থেকে ফারেগ হওয়ার পর মুস্তাহাব হলো: আসতাগফিরুল্লাহা রাব্বী মিন কুল্লি যানবিউ ওয়া আতুবু ইলাইহি ৩ বার, আয়াতুল কুরছি ১ বার, সূরায় ইখলাছ, সূরায়ে ফালাক ও সূরায়ে নাছ একেক বার করে পাঠ করা, তাসবীহে ফাতেমী অর্থাৎ ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুল্লিাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া। প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ বার ইস্তিগফার, ১০০ বার কালিমা তাইয়্যিবা এবং ১০০ বার দুরূদ শরীফ এই নিয়্যতে পড়বে যেন অন্তরে আল্লাহ পাকের মহব্বত বাড়ে আর গাইরুল্লাহর মহব্বত কমে। বিভিন্ন সময় উঠতে বসতে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়তে থাকা। উত্তম হলো  উপরে উঠার সময় আল্লাহু আকবার, নিচে নামার সময় সুবহানাল্লাহ এবং সমতল ভূমিতে চলার সময় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়তে থাকা। এই তিনটি সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতের উপর আমল করতে পারলে নিজেই ইহার বরকত স্বচক্ষে অবলোকন করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *