লা-হাউলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ এর ৪টি ফায়দা || খাদেমুস সুন্নাহ শাইখে দেওনা হাফিজাহুুল্লাহ || রাহে সুন্নাত ব্লগ

Blog (ব্লগ) ইসলাম প্রতিদিন সংবাদ

(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيْمِ    “লা-হাউলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” দুনিয়া আখেরাত সম্পর্কীয় নিরানব্বইটি ব্যধির ঔষধ, যার মধ্যে সর্বাধিক হালকা ব্যাধি হলো পেরেশানী। চাই তা দুনিয়া সম্পর্কিত হউক কিংবা আখেরাত সম্পর্কিত। -মিশকাত, ৫ম খণ্ড, ১২১পৃষ্ঠা

(২) লা-হাউলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ কালেমাটি আরশের নীচে অবস্থিত জান্নাতের একটি অমূল্য রত্ন-ভান্ডার। আর জান্নাতের ছাদ হলো আল্লাহ তাআলার আরশ। ইহা পাঠ করলে নেক আমল ও সৎকর্ম সমূহ অবলম্বন করা এবং পাপাচার থেকে বাঁচার তাওফীক মিলতে থাকে। এই অর্থেই ইহাকে “জান্নাতের রত্ন-ভান্ডার” বলা হয়েছে। 

(৩) বান্দা যখন এই কালেমা পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার আরশ হতে ফেরেশতাদেরকে সম্বোধন করে বলেন, আমার বান্দাটি আমার অনুগত ও ফরমাবরদার হয়ে গিয়েছে এবং অবাধ্যতা ও সীমালংঘন পরিহার করেছে।
একটি হাদীস
হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, একদা হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি কালেমা শিখিয়ে দিব না? যা আরশের নীচে অবস্থিত বেহেশতের একটি রত্ন-ভান্ডার। তা হলো- لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيْمِ    লা-হাউলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। বান্দা যখন ইহা পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে বলেন- 
 اَسْلَمَ عَبْدِىْ وَاسْتَسْلَمَ اَىْ اِنْقَادَ وَتَرَكَ الْعِنَادَ وَفَوَّضَ اُمُوْرَ الْكَائِنَاتِ اِلَى اللهِ بِاَسْرِهَا       
অর্থ : আমার বান্দাটি অবাধ্যতা বর্জন করে আমার অনুগত হয়ে গিয়েছে এবং তার সকল বিষয় আমার হাতে ন্যাস্ত করে দিয়েছে। -মিরকাত, ৫ম খণ্ড, ১২১, ১২২ পৃষ্ঠা
ইহা কি কম বড় নিআমত যে, বান্দা যমীনের উপর এই কালেমা পড়তেছে, আর আল্লাহ তাআলা তার আরশের উপর ফেরেশতাদের সম্মুখে তাকে স্মরণ করতেছেন?

(৪) এই কালেমা শবে মে‘রাজে হযরত ইবরাহীম আ. কর্তৃক প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রদত্ত ওয়াসিয়্যাত ও উপঢৌকন।

হাদীস শরীফে আছে-
শবে মেরাজে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হযরত ইবরাহীম আ. এর মধ্যে সাক্ষাত কালে তিনি বলেছিলেন, হে মুহাম্মদ! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনি আপনার উম্মতকে বলবেন, তারা যেন  لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيْمِ    “লা-হাউলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” দ্বারা ‘জান্নাতের বাগান’ বৃদ্ধি করে থাকে। -মিরকাত, ৫ম খণ্ড, ১১১ পৃষ্ঠা
অতএব, ইহা পাঠে ‘ইবরাহীমী ওয়াসীয়্যাতের’ উপর আমলের সৌভাগ্য ও প্রভূত কল্যাণ অর্জিত এবং বেহেশতী বাগানও বৃদ্ধি প্রাপ্ত হতে থাকবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন
—————————————————————————————————-
নির্দেশনা : খাদেমুস সুন্নাহ অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী দা. বা.
নাযেম, মাদরাসা দাওয়াতুল হক, দেওনা
কাপাসিয়, গাজীপুর
—————————————————————————————————–
বর্ণবিন্যাস : আবু তাসনীম উমাইর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *