সুখে দুঃখে প্রিয় নবী সা.

সুখে দুঃখে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ

ইসলাম প্রতিদিন জীবন কথা জীবনের গল্প নবীদের কাহিনী মুআশারাত

সুখে দুঃখে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ

আমরা বলি, যেহেতু আমরা সবাই রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত আর মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন- لقد كان لكم في رسول الله أسوة حسنة

অর্থ ঃ রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র সত্তার মাঝে তোমাদের জন্য রয়েছে অতি উত্তম আদর্শ।

সুতরাং রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য আদর্শ । তিনি কথার দিক থেকে যেমন আমাদের জন্য আদর্শ, তেমনি তিনি কাজের দিক থেকেও আমাদের জন্য আদর্শ। তদ্রূপ খুশির সময়েও তিনি আদর্শ, আবার দুঃখ ও অস্থিরতার সময়ও তিনি আদর্শ। তিনি ও আনন্দ করেছেন অর্থাৎ, বিবাহ করেছেন আবার দুঃখও সয়েছেন। আল্লাহ পাক তাঁর রাসূলের দ্বারা সবকিছু করিয়ে উম্মতকে দেখিয়েছেন যাতে তারা বুঝতে পারে যে, এক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন আমাদেরও তাই করা উচিত।

যেমন প্রিয় নবী হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্র ইবরাহীম এর যখন ইন্তিকাল হলো, তখন লোকজনের কোন সমাবেশ যেমন হয়নি, তেমনি কেউ বিলাপও করেনি, কোন ডাক চিৎকারও শোনা যায়নি। তবে চোখের অশ্রু স্বয়ং রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরও বের হয়েছে । এতটুকুর অনুমতিও ছিল। তিনি এও বলেছিলেন- ( انا بفراقك ياابراهيم لمحزونون (جامع المسانيد ٥١٦/٢)

অর্থ : হে ইবরাহীম! আমরা তোমার বিরহে অবশ্যই ব্যথিত ও চিন্তাক্লীষ্ট।

এখানে তো প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়াসাল্লাম দুঃখ করে দেখিয়েছেন। আর আনন্দ ও বিবাহের আদর্শ দেখিয়েছেন এভাবে যে, হযরত ফাতিমা (রাযি.)-এর বিবাহ হলো, সেখানে কোন ঘটক যেমন চিঠি-পত্র নিয়ে আসেনি তেমনি কোন গায়ক-গায়িকারও আগমন ঘটেনি। বরং দুলা সাহেব নিজেই এলেন এবং তিনি বিবাহের প্রস্তাব করলেন, যার মাঝে ছিল না কোন স্মারক চিহ্ন, ছিল না কোন আংটি বা চিঠি পত্র তেমনি ছিল না কোন উন্নত মিষ্টি খাবার, ছিল না ঘটকের বখশিশ। যেমন বর্তমানে দেখা যায়, যখন ঘটক মেয়ে পক্ষ থেকে বিবাহের তারিখের চিঠি নিয়ে আসে তখন তার সামনে অনেকগুলো টাকা স্তূপ করে রাখা হয়। সে তার মধ্য থেকে একটি টাকার নোট হাতে তুলে নেয়। কিন্তু তারে যখন একটি নোট নেয়াই উদ্দেশ্য তাহলে এতগুলো টাকা তার সামনে পেশ করাটা তো একটা প্রকাশ্য ধোকা ও প্রতারণারই নামান্তর। বরং এটা ধোঁকাও নয় কারণ উপস্থিত লোকজন সকলেই জানে যে, এখানে সম্পূর্ণ টাকা তাকে দেয়া উদ্দেশ্য নয়। তাহলে এটা একটা বেহুদা কাজ ছাড়া আর কি হবে? আমাদের তো ধারণা এরূপ যে, যত টাকা তার সামনে পেশ করা হয়েছে সবই সে নিয়ে নিবে এবং আপনিও তাকে খুশির সাথে বলে দিবেন যে, ভাই! এসব টাকা নিয়ে যাও, এতে তোমার সারা জীবন চলে যাবে। কিন্তু এ ঘটক বেচারাও অপারগ, সে ওখান থেকে এক-দুটো নোটের বেশী নিতে পারে না। এরপর পরিবার ও এলাকার লোকদের একত্রিত করা হয় এবং বলা হয় ঘটককে মিষ্টি মুখ করিয়ে দাও। তখন তারা সবাই এসে ঐ ঘটকের মুখে এক লোকমা করে মিষ্টি খাবার তুলে দেয়। এতো খাবার দেয়া নয় বরং লোকমা গণনা করা। আর ঐ ঘটক বেটাও এমন বাহাদুর ব্যক্তি, বাহাদুর তো নয় বরং বেহায়া যে, সে সবার সামনেই নিঃসংকোচে খেতে থাকে। মনে হয় যেন সে খাওয়ার জন্য খুবই উদ্গ্রীব, কেমন বেহুদা এবং নিষ্ফল রসম।

একটি বিবাহে আমি ছেলের মুরব্বী হয়ে গিয়েছিলাম। পূর্ব থেকেই এ সিদ্ধান্ত করে নেয়া হয়েছিল যে, কোন রসম ও রেওয়াজের অনুসরণ করা চলবে না। যা হোক পূর্বনির্ধারিত সময় মতো আসরের নামাযের পর বিবাহ হয়ে গেল এবং মাগরিবের নামাযের পর খানা পরিবেশন করা হলো। এখানে খাদেম এসে হাত ধোয়ালো এবং সে এ অপেক্ষায় রইলো যে, এবার কিছু বখশিশ পাওয়া যাবে, কিন্তু সে কিছুই পেল না। খাওয়া দাওয়ার পর পুনরায় সে অপেক্ষা করতে থাকলো কিছু পাওয়ার জন্য। পরিশেষে সে একটি তসতরী আমার সামনে রেখে বললো, হুযূর আমার পাওনা পরিশোধ করুন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেমন পাওনা, নিয়মতান্ত্রিক পাওনা নাকি, রসমী পাওনা ? এবং তাকে আরো বললাম, তোমার মালিককে গিয়ে জিজ্ঞাসা করো সে সকল রসম ও রেওয়াজ বন্ধ রাখার বিষয়টি কেন মেনে নিয়েছিল। সে সময় একজন মৌলভী সাহেবও সেখানে খানা খাচ্ছিলেন। উনি আস্তে করে বললেন, এটা তো কোন রসম নয় বরং এটা হলো খেদমতের হক। খাদেমকে কিছু দেয়া তো ভাল। কিন্তু তার একথা শুনে আমি উচ্চ আওয়াযে বললাম, খেদমতের হক কি নিজের খাদেমকে দিতে হয়, নাকি দুনিয়ার সকল খাদেমকেই দিতে হয় ? আমার খাদেম আমার খেদমত করেছে তাকে যদি আমি কিছু দেই তবে সেটা তার হক হতে পারে। কিন্তু অন্যের খাদেমের আমার উপর কি হক বা পাওনা আছে ?

আমার এ বয়ানের কারণে মৌলভী সাহেবের চোখ খুলে গেল এরপর সকাল হলো খরচের ফর্দ ও তালিকার ব্যাপারে কথা-বার্তা শুরু হলো। রসম ও প্রথা পুজারীদের নিয়ম হলো, তারা একটা ফর্দ ও তালিকা তৈরি করে সে তালিকায় ওসব নীচু ধ্যান ধারণার লোকেরা তাদের নাযরানা ও উপঢৌকনের ফিরিস্তী পেশ করে থাকে। কিন্তু কারো সাহস হচ্ছিল না সেটি আমার সামনে উপস্থাপন করার। আমার এক বন্ধু ছিল তার মাধ্যমে ওটা আমার কাছে পৌঁছানো হলো, তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি ? জবাবে আমি বললাম, গতরাতে এ ব্যাপারে যা বলেছি সেটাই আমার মত, সাথে আমি একথাও বলছি যে, মানুষের লজ্জা করে না আমাদের সামনে খরচের তালিকা পেশ করতে ? তাদের খাদেম দ্বারা তারা নিজের কাজ করিয়েছে, ভিস্তিওয়ালার নিকট থেকে নিয়েছে আর তার মঞ্জুরী দেব আমরা। নিজের মেহমান দ্বারা খাদেমের পারিশ্রমিক দেয়ানো কেমন নির্লজ্জতার কথা। কিন্তু এসব রসম ও প্রথার অনুসরণ করতে গেলে আকল আর যুক্তি তো পূর্ব থেকেই বিদায় নেয়, এমন কি লজ্জা শরমও থাকে না।

এবার মেয়ে উঠিয়ে নেয়ার সময় এলো। মেয়ে পক্ষ বললো যে, পালকী অথবা বধু বহনের বাহন নিয়ে আসুন! আমরা পালকী বা ডুলী ছাড়া মেয়ে দিব না। আমি বললাম, আমাদের উঠিয়ে নেয়ার কোন দরকার নেই। সাথীরা জিজ্ঞাসা করলো, এখন আপনার মতামত কি ? আমাদের এখন কি করণীয় ? আমি বললাম, আমার মতামত হলো, বিবাহ তো হয়েই গেছে। আমরা আমাদের বাড়ি চলে যাচ্ছি, তোমরা নিজেরা আমাদের পিছনে পিছনে বউকে নিয়ে আসবে। আমার একথা শুনে তারা সোজা হয়ে গেল, এবার তারা বললো, যৌতুক (উপঢৌকনগুলো) নেয়ার জন্য একটা ঠেলাগাড়ির ব্যবস্থা করুন। আমি বললাম, আমরা তো যৌতুকই নিতে রাজী নই। শেষ মেশ ঠেলাগাড়ির ব্যবস্থাও তারা নিজেরা করলো, মহিলারা অভিশাপ করতে থাকলো কিন্তু আমরা ছিলাম মযলূম, জালিমের অভিশাপে মযলূমের কোন ক্ষতি হয় না। সার কথা হলো, সেটি এমন একটি বরকতপূর্ণ বিবাহ হলো, যেখানে উভয় পক্ষই লাভবান হলো, কোন পক্ষেরই এক টাকাও (বেহুদা) খরচ হলো না।

এই ছেলেরই আরেক ভাইয়ের বিবাহ রসম ও রেওয়াজের অনুসরণ করে সম্পাদন করা হলো। ফলে ছেলে পক্ষ ঋণগ্রস্ত হয়ে গেল। আমি বললাম, এক বিবাহে তোমরা ঋণগ্রস্ত হয়েছো, অপর একটি বিবাহ যদি এভাবে হয় তবে তো শেষ হয়ে যাবে। ঐ ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির বিবি নিজের বাবা মাকে এবং শ্বশুর-শাশুড়িকে এই বলে অভিশাপ করছিল যে, তাদের তো কিছু হয়নি খানা-পিনার কষ্ট হলে আমাদের হচ্ছে।

লক্ষ্য করুন! প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ফাতিমা (রাযি.)-এর বিবাহ সম্পাদন করেছেন এবং তার মাধ্যমে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন যে, বিবাহ এভাবে হতে হয়। সে বিবাহে কোন কলহ-বিবাদ হয় নি, কোন ঝুট-ঝামেলা ও ছিল না। প্রিয়নবী হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী (রাযি.) কে ডেকেছেন আর কাউকেও ডাকেননি। যারা উপস্থিত ছিল তাদের সামনেই বিবাহ পড়িয়ে দিয়েছেন।

এর চাইতেও অধিক বিস্ময়ের বিষয় হলো, সম্ভবত ‘মাওয়াহিবে লাদুনিয়্যাহ’ নামক কিতাবে আছে যে, বিবাহের সময় হযরত আলী (রাযি.) ও উপস্থিত ছিলেন না। একারণেই প্রিয়নবী হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা উল্লেখ করেছিলেন ان رضى على অর্থাৎ যদি আলী (রাযি.) সম্মত হয়। এরপর যখন হযরত আলী (রাযি.) এলেন তিনি বললেন رضيت অর্থাৎ, আমি সম্মত আছি। যেখানে স্বয়ং দুলারই প্রয়োজন হয় না, সেখানে আবার বরযাত্রী কিসের। কিন্তু আমাদের দেশের প্রথা তো হচ্ছে, সেখানে কলিমদ্দি, সলিমদ্দি সবাইকে একত্রিত করতে হবে। কেউ আবার বলে, অমুক তো এখনও আসলো না, তো বিয়ে হবে কিভাবে ? অমুক তো রাগ করে আছে তাকে বুঝিয়ে বলিয়ে ঠিক কর। আরে ভাই! এসব ঝামেলার কি প্রয়োজন? সরল সহজ ভাবে বিবাহ হয়ে যাওয়াই তো উচিত। হযরত আলী (রাযি.)-এর সাথে হযরত ফাতিমা (রাযি.)-এর বিবাহ হয়ে যাওয়ার পর উম্মে আয়মান (রাযি.)-এর সাথে হযরত ফাতিমা (রাযি.) কে হযরত আলী (রাযি.)-এর ঘরে পৌছে দেয়া হয়েছিল। রাতে নবীজী সাল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী (রাযি.) এর বাড়ি গেলেন এবং বললেন, ফাতিমা পানি আন। দেখুন নতুন বউ এবার নিজ হাতে পানি এনে দিচ্ছে। বর্তমানে তো বিবাহের পূর্বেই নববধুকে হলুদ কাপড় পরিয়ে নিভৃতে বসিয়ে দেয়া হয় । কারো সামনে আসতে বারণ করে দেয়া হয়। ঐ বেচারীর তো মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়, তার হৃদকম্পন শুরু হয়ে যায়। আবার তাকে তা’লীম দেয়া হয়, কিছু খাবে না। ঐ বেচারী তো অনভিজ্ঞ, তাদের কথা শুনে সে খানা-পিনা বন্ধ করে দেয়। পরিশেষে ফল এই হয় যে, সে অসুস্থ হয়ে যায়।

সারকথা হচ্ছে, নিভৃতে বসিয়ে দিয়ে নববধুকে শিখানো হয়, শরীরে চুলকানী উঠলেও চুলকাবে না, পেশাব পায়খানা করবে না। কিন্তু যদি সে পেশাব করতে চায় তাহলে বলে, মেয়েটি কেমন নির্লজ্জ লোটা নিয়ে রওয়ানা করছে।

নানুতা অঞ্চলের একটি ঘটনা, সেখানে এক নববধু চাকরানীকে বললো, আমাকে পানি এনে নামায পড়ানোর ব্যবস্থা কর! চাকরানি তা না করে চুপ চাপ বসে রইলো। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে সে নিজেই লোটা নিয়ে জরুরত সেরে অযূ করে নামায পড়লো। এরপর পুনরায় উড়নী মুড়ো দিয়ে বউ সেজে বসে গেলো। এ অবস্থা দেখে মহিলারা খুব বক বক করলো যে, একবার যখন শরম ভেংগে দিল এরপর আবার শরমের অভিনয় করার কি অর্থ। এ সংবাদ যখন মাওলানা মামলুক আলী সাহেব (রহ.)-এর কাছে পৌঁছলো, তখন তিনি সে ঘরের দরজায় গিয়ে হাজির হলেন এবং বললেন, ধন্যবাদ! শাব্বাশ!! নেককার নববধুর এমনই হওয়া উচিত। এরপর আরেকটি প্রথা হলো, নববধুকে মুখে রুমাল দিয়ে বসে থাকতে বলা হয়। তার অর্থ হলো, বেচারীকে দ্বীন ও দুনিয়ার সকল কাজ থেকে বেকার করে দেয়া হয়। এর মাঝেও আবার শর্ত হলো, কোন রকম নড়াচড়াও করা যাবে না বরং এক ভাবেই বসে থাকতে হবে। এরপর আবার তার একটা পরীক্ষা করা হয় তাহলো, নববধুকে কাতুকুতু দেয়া হয়, এতে যদি নববধু হেসে উঠে তাহলে। বধুকে নির্লজ্জ মনে করা হয়। এ কেমন বাজে প্রথা ? লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ। এ সমস্ত রুসূমাত কি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্পাদিত বিবাহেও ছিল ? কম্মিনকালেও নয়। হযরত ফাতিমা (রাযি.) তো সে বিবাহের রাতেই নিজ হাতে পেয়ালায় পানি ঢেলে নিয়েছিলেন।

আরো একটি কুপ্রথা তা হলো, নববধু নিজে পালকী থেকে নামে না বরং অন্য একজনে গিয়ে তাকে কোলে করে নামিয়ে আনে। হাট্টা গাট্টা হস্তিনীর মত মোটা বড় অথচ মানুষের কোলে উঠে চলে, কখনো আছাড় পাছাড় খায়, ব্যথাও পায় অথচ আবার কোন কোন স্থানে বর নিজেই নববধুকে কোলে নিয়ে নামায়। লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ, এসব লোকের শরমও লাগে না। এসব কুপ্রথা আর বেহুদা কর্মকাণ্ড কি হযরত ফাতিমা (রাযি.)-এর বিবাহে ছিল ? কম্মিনকালেও নয়। সারকথা হলো, আনন্দ এমনভাবে করো যেভাবে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন। অনুরূপ দুঃখ ও সেভাবেই প্রকাশ করো যেভাবে তিনি করেছেন। পবিত্র কুরআনের ইরশাদ- لقد كان لكم في رسول الله أسوة حسنة
অর্থ ঃ রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। (সুরা আহযাব, ২১ আয়াত)

একথার অর্থ এটাই। এখন (বিবাহের ক্ষেত্রে) লেন-দেনের রুসুমাতের আলোচনা বাকী আছে। এখানেও শরীয়তের অনুসরণ করতে হবে।

“লাজিমা” দেওয়া প্রথা এটা হিন্দুদের থেকে এসেছে হিন্দিতে এটাকে برى বলে। আর بر  বলা হয় স্বামীকে। ي (ইয়া হরফ) দ্বারা তার দিকে সমদ্ধযুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, স্বামীর বাড়ি থেকে পাঠানো সামগ্রী।

এ শব্দটিই বলে দিচ্ছে যে, এটি কাফিরদের প্রথা, মুসলমানদের কোন রীতি এটা নয়। আজ মুসলমানরা আল্লাহ পাকের বিধান ছেড়ে দিয়ে কাফির-মুশরিকদের প্রথা অনুসরণ করছে। অথচ মুসলমানদের অবস্থা তো এরূণ হওয়া উচিত ছিল।

تركت اللات والعزى جميعا            كذالك يفعل الرجل البصير

অর্থ : আমি লাত আর ওজ্জা সব ছেড়ে দিয়েছি, আর বিচক্ষণ ব্যক্তিরা এমনটিই করে থাকেন ।

আল্লাহ পাকের বিধান শক্ত করে ধারণ করো এতে যেমন দ্বীনী ফায়দা তেমনি দুনিয়ারও লাভ নিহিত রয়েছে। এখন আমি বলে দিচ্ছি এখানে যে বিবাহ হবে তা হবে খুবই সাদাসিধা, যদি বিবাহের ক্ষেত্রে এটাকে অনুসরণ করা হয় তাতেই মঙ্গল নিহিত। এ বিবাহ কোন গরীব দুঃস্থ পরিবারেরও নয় মাশাআল্লাহ উভয় পক্ষ সম্পদশালী, তারা যদি ইচ্ছা করতো তবে অনেক টাকা খরচ করতে পারতো। কিন্তু শরীয়তের অনুসরণ করার জন্য এমনটি করছে না। গরীবদের ক্ষেত্রে এখন এ উযর থাকলো না যে, শরীয়তের উপর আমল করার কারণে মানুষের কাছে লজ্জিত ও অপমানিত হতে হয়। এখন তো লজ্জা বা অপমানের কিছুই নেই কারণ সম্পদশালী ব্যক্তি শরীয়ত মুতাবেক বিবাহ সম্পাদন করছে। এটিকে গনীমত মনে কর।

এবার আমি আলোচনা শেষ করছি। সকলে এই দু’আ করুন! আল্লাহ পাক যেন আমাদেরকে ইসলামের বিধানের উপর আমল করার তাওফীক দান করেন, এবং আমাদের পার্থিব সকল কার্যক্রম যেন শরীয়তের বিধান মোতাবেক করে দেন। আমীন।

আরো জানতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েব সাইট রাহে সুন্নাত ব্লগ

জীবন কথা

প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন-দর্শন

Leave a Reply

Your email address will not be published.