ভালো বক্তা হতে কি কি প্রয়োজন?

সুবক্তা হওয়ার ধাপসমুহ। steps to become a good speaker

জানা-অজানা

সুবক্তা হওয়ার ধাপসমুহ

১. মানসিক প্রস্তুতি
বক্তা হতে হলে শিশাঢালা মনোবলের অধিকারী হতে হবে। মানসিকতার দিকটা যার যত প্রবল ও শক্তিশালী হবে তার অগ্রগতি হবে তত দ্রুত। সাহস হবে যার যত বেশি সে তত সহজে ময়দান দখল কতে পারবে সহজে। বুকের পাটা মজবুত হতে হবে।

২. অনুশীলন
দুনিয়াতে ছোট বড় যত শিল্পকর্ম আছে তার সবটিই অনুশীলন সাপেক্ষ। ক্ষুদ্র রিকসা চালনা থেকে শুরু করে বিমান চালনা পর্যন্ত, হস্তশিল্প থেকে কম্পিউটার বিদ্যা পর্যন্ত সবই অনুশীলন করে অর্জন করতে হয়। প্রশিক্ষণ ব্যতীত কোনো শিল্পেই পরিপক্কতা অর্জন করা যায় না।

সাপ্তাহিক বক্তৃতা প্রশিক্ষণ মজলিস বা এ জাতীয় আয়োজনে প্রতিদিনকার সবচাইতে জরুরি ক্লাসটির মতো গুরুত্ব দিয়ে হাজির হতে হবে এবং প্রতি মজলিসেই বক্তৃতা করতে হবে। এই অনুশীলনই পা কাঁপা, বুক কাঁপা ও কণ্ঠ কাঁপার মতো যত সমস্যা আছে সবই দূর করে ফেলবে। আরবী ভাষায় প্রবাদ আছে-

اَلْمُرَانَةُ يَدٌ لَا تَجْحَدُ فِىْ تَكْوِيْنِ الزّوْقِ الْفَنِّى
‘শিল্পীমন সৃষ্টিতে অনুশীলনের অনস্বীকার্য হাত রয়েছে।’ তাই পঠিত কিতাবী বিদ্যাকে আগামী দিনে শিক্ষকের মতো উপস্থাপনের জন্যে যেভাবে তাকরার করে অনুশীলন করতে হবে। ঠিক তেমনই নিজেকে মেহনতের দ্বারা উপযুক্ত করতে হবে ‘বক্তৃতা’ করার মাধ্যমে।

৩. পর্যাপ্ত জ্ঞান
বক্তা হতে হলে জ্ঞানের কুমির হতে হয়। কারণ ঝুলিতে টাকা থাকলে অন্যকে দান করা যায়। বক্তার নিজের যদি আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে জানাশোনা না থাকে তাহলে শ্রোতাকে কিভাবে জানাবেন, কিবা শোনাবেন। অনেকে আছেন বক্তৃতা শুরু করার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ভাবেনই না তিনি কি বলবেন। নাম ঘোষণার পর বাইম মাছের মতো দোয়া চেয়ে বা অসুস্থতা বা পেরেশানির কথা বলে বিষয়বস্তুর বাইরে ইরান তুরানের গল্প শুনিয়ে চলে যান। অনেকে আছেন তার গদবাঁধা কিছু কথা বলে মজলিস গরম করে মঞ্চ ত্যাগ করেন। এগুলো পলায়নের পথ। যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বরাবর লক্ষ্য করা যায়।

এথেকে বাঁচার রাস্তা হলো প্রথমেই নিজের জীবনের গুরুত্ব বুঝতে হবে। বুঝতে হবে তার আজকের এই মুঠো সমস্যা যৎসামান্য অনুশীলন, চর্চা ও সাধনাই তাকে একটি বর্ণাঢ্য জীবন উপহার দিবে। তাকে কঠিনভাবে বিশ্বাস করতে হবে
اِنَّ السَّفِيْنَةَ لَا تَجْرِىْ عَلَى الْيَبِسِ
‘নৌকা কখনো শুকনোয় চলে না।’

মোদ্দাকথা, বক্তৃতা করার জন্য ভাগার মনমানসিকতা বর্জন করে পূর্ব নির্ধারিত বিষয় সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ও বিন্যস্ত ধারণা নিয়ে তারপর বলতে শুরু করতে হবে।

৪. ভাষাগত জ্ঞান
ভাষাগত সমস্যা বক্তৃতার ক্ষেত্রে অতি সাধারণ একটি সমস্যা। যার সমাধান সঠিক বুঝ এবং সামান্য চর্চার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। আপনি যে ভাষাতে কথা বলেন সে ভাষা সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা দরকার। কারণ ভাষার চমৎকার উপস্থাপনে শ্রোতা অধিক আকর্ষিত হয়। তাই ভাষার বাগডোর বক্তাকে হাতে নিতে হবে। সর্বদা বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করতে হবে।

প্রতিযোগিতামূলক সেমিনারগুলোতে বক্তার যে বিষয়ের উপর লক্ষ্য রেখে বিচারকমণ্ডল নম্বর প্রদান করে থাকেন ভাষাগত মাধুর্যতা ও শুদ্ধতা তার মাঝে অন্যতম। সুতরাং ভালো বক্তা হতে হলে ভাষাগত দক্ষতা আপনাকে অর্জন করতেই হবে। অন্যথায় আপনি হয়ত গ্রাম্য বক্তাদের মতো সাময়িক নাম ডাক অর্জন করতে পারবেন কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনে সাইন করতে পারবেন না।

আরো জানতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েব সাইট রাহে সুন্নাত ব্লগ

মুমিন ও মুসলমান হওয়ার বিষয়টি বিশ্বাস করা কি জরুরী ?

ঘুরাফেরা করণার্থে মহিলাদের বাইরে যাওয়া

যে মহিলা বে-পর্দা চলতে অভ্যস্ত তার জন্যও পর্দা আবশ্যক

বিবাহের পর কনে তুলে নেওয়ার আগে পর্দা রক্ষা করা কি জরুরী?

ডাক্তারের সামনে শরীর উন্মুক্ত করার শরয়ী বিধান কী?

https://youtu.be/JzUwd-EUYW0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *